Thursday , February 25 2021
Breaking News

Tag Archives: হত্যা

বুয়েট ছেড়েছে শহীদ আবরার!

ছাত্রলীগের মারধরে নিহত বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের প্রথম নামাজে জানাজা বুয়েটের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে এই নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে শেষবারের মতো আবরারের মৃতদেহ দেখানো হয়। এসময় আবরারের সহপাঠীসহ বুয়েটের শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আবরারের লাশ বুয়েট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে আনা হয়। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলো৷ সে শের-ই বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতো। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। হলের শিক্ষার্থীরা জানান, রোববার রাত আটটার দিকে আবরার–ফাহাদকে শের–ই–বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৭-৮ জন নেতা। তারা আবরার ফাহাদের মুঠোফোন চেক করে শিবির করেন কি না তার প্রমাণ খোঁজে। একপর্যায়ে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প, ছুরি দিয়ে তাকে পেটাতে শুরু করেন। পরে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই কক্ষে গিয়ে আবরারকে আরেক দফায় পেটায়। এতে তার মৃত্যু হলে লাশ সিঁড়ির নিচে রেখে যায় হত্যাকারীরা। পুলিশ রাত তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের দোতলা থেকে একতলায় নামার সিঁড়ির মাঝখান থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়। সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে আবরারের ময়না তদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ মোঃ সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, নিহত শিক্ষার্থী আবরারের শরীরের হাতে, পায়ে ও পিঠে মারধরের আঘাত রয়েছে। আর এই আঘাতের কারণেই অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে আঘাতের ধরণ দেখে মনে হয়েছে ভোতা কোনো জিনিস যেমন, বাঁশ বা স্টাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। কিন্তু আবরারের মাথায় কোনো আঘাত নেই। কপালে ছোট একটি কাঁটা চিহ্ন রয়েছে। রাত ৯টার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে ছেলে আবরারের মরদেহ নিতে  আসেন তার বাবা বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, আমার ছেলে (আবরার ফাহাদ) কোনোদিন কোনো সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল না। কখনো খারাপ কিছু করেনি। আমাদের কুষ্টিয়ায় (আবরারের গ্রামের বাড়ি) সবাই তাকে একনামে ভালো ছাত্র হিসেবেই চিনত। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাই, আর কোনো মেধাবী ছাত্রের যেন এমন অকালমৃত্যু না ঘটে।

Read More »
You cannot copy content from this site.