মুক্তমতঃ সিরিয়া রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে নাটকীয় মোড়

•লিখেছেনঃ নুসাইর তানজীম

 

উত্তর সিরিয়ার পরিস্থিতি চরম নাটকীয়তার দিকে মোড় নিচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ঘোষনা দিয়েছেন যে, “কয়েক দিনের মধ্যেই আমেরিকা ১০০০ মার্কিন সেনাকে উত্তর সিরিয়া থেকে প্রত্যাহার করে নিবে। তিনি বলেছেন, তুর্কীদের অভিযান দেখে মনে হচ্ছে তারা তাদের অভিযান সীমিত পর্যায়ে রাখবে না। এদিকে কুর্দী এসডিএফও তুর্কী হামলার চাপের মুখে আসাদ সরকারের সাথে আলোচনা শুরু করেছে। এই অবস্থায় সেখানে মার্কিন সেনারা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। তাই প্রত্যাহারর করে নেয়া ছাড়া উপায় নেই।” তিনি এও বলেছেন যে, তুর্কিরা সিরিয়ায় ঢুকার সময় আমাদের অনুমতি চায় নি। বরং প্রবেশ করার মুহুর্তে আমাদেরকে জানিয়েছে।’ এখানে তিনি ‘আমাদেরকে’ বলতে সম্ভবত পেন্টাগনকে বুঝিয়েছেন।

এটা অভূতপূর্ব ঘটনাই বলতে হবে। যে আমেরিকানরা মাত্র কিছুদিন পূর্বেও উত্তর সিরিয়ায় ৩০ কিলোমিটার-ব্যাপী সেফ জোন প্রতিষ্ঠা করার তুর্কী প্রস্তাবে রাজি হয় নি, তারা এখন ৩০ কিলোমিটার নয়, গোটা উত্তর সিরিয়া থেকেই সৈন্য প্রত্যাহার করতে চায়। তবে তা ক্রমপর্যায়ে ঘটবে। প্রাথমিকভাবে ভেতরের দিকে এক দু’টি ঘাঁটি রাখবে।

আরো কিছু লক্ষ্যনিয় ব্যাপার ঘটেছে। তুরস্কের পূর্বের হামলাগুলোতে আসাদ সরকার যেরকম জোরালো নিন্দা জানাতো, জাতিসঙ্ঘকে বিচার দিতো, এবার সেরকম কিছুই ঘটেনি। বরং এক রকম চুপ ছিলো। ওই দিন নিরাপত্তা পরিষদে ইউরোপীয়ান রাষ্ট্রগুলো তুরস্কের হামলা বন্ধ করার প্রস্তাব আনলে সেটাতে রাশিয়া ভেটো দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নেও নিন্দা প্রস্তাব পাশ হতে পারেনি হাঙ্গেরীর ভেটোর কারণে। তাই বলা যায় তুরস্ককে বড় কোন রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। অন্যদিকে তুরস্কের হামলার সাথে সাথেই এসডিএফ আসাদ সরকারকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলো। কিন্তু সিরিযার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিকদাদ সেই প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়ে বলেছিলেন: ওরা দেশদ্রোহী। সিরিয়াকে ভাঙতে চায়। ওদের সাথে কোন আলোচনা নেই। কিন্তু গতকাল এসডিএফ ঘোষনা দিয়েছে যে, তারা আসাদ সরকারের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, “তুর্কী আগ্রাসন থেকে বাঁচানোর জন্য উত্তর সিরিয়ার তুর্কী সীমান্ত এলাকাগুলোকে সরকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিবে।” সিরিয়ার সংবাদ সংস্থা ‘সানা’ও এই কথার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সে হিসেবে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার এলাকাগুলোতে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সিরিয়ার সরকারী সেনারা প্রবেশ করবে।

এই বিষয়গুলোকে পাশাপাশি রাখলে যে ফলাফলটা স্পষ্ট হয়, সেটা হচ্ছে, তুরস্ক, রাশিয়া এবং ট্রাম্পের মধ্যে উত্তর সিরিয়া নিয়ে কোন পূর্ব-সমঝোতা হয়েছিল। এই প্ল্যানের অংশ হিসেবে তুরস্ক সেখানে প্রবেশ করেছে। প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ আছে। তুরস্কের স্বার্থ হচ্ছে, যেকোনভাবে উত্তর সিরিয়ায় pkk/sdf এর হাতে স্বাধীন কুর্দী রাষ্ট্রর সম্ভাব্য অভ্যুদয় ঠেকানো। সিরিয়ার ভুমি দখল করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। এই উদ্দেশ্যে তুরস্ক অভিযানের ঘোষনা দিয়েছে, যাতে কুর্দী মিলিশিয়াগুলো চাপের মুখে সরকারের সাথে আলোচনায় যেতে বাধ্য হয়। সেটা যদি না হয় তাহলে তুরস্ক প্রস্থে ৩০-৪০ কিলোমিটার এবং দৈর্ঘে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দখল করে এসডিএফ-মুক্ত রাখবে। পাশাপাশি এখানে আরব শরনার্থীদের পূণর্বাসন করে তুরস্ক এবং সিরিয়ার মধ্যে একটি আরব করিডোর তৈরি করে নিবে। তাহলে কুর্দীদের দখলকৃত এলাকাটা ছোট্ট ইরাক সীমান্ত ছাড়া বাকী সব দিক দিয়ে অবরুদ্ধ থাকে। প্রায় চতুর্দিক থেকে অবরুদ্ধ এরকম একটি এলাকার ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে টিকে থাকা অসম্ভব হবে। যদি ঘটনা এরকম হয়, তাহলে সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর কুর্দী এলাকায় প্রবেশ করাতে তুরস্ক নাখোশ নয়। বরং তুরস্কের সম্মতিতেই ঢুকবে। এতে তুরস্কের স্বার্থ আদায় হবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, এই অভিযানে তুরস্ক বড় কোন ফোর্স ব্যাবহার করছে না। বিমান এবং আর্টিলারি হামলার উপর ভরসা করছে। মূল পদাতিক বাহিনী হিসেবে প্রবেশ করেছে ফ্রী সিরিয়ান আর্মির যোদ্ধারা। তাদেরকে কমান্ড করছে তুর্কী কমান্ডোরা। মূল সেনাবাহিনী প্রবেশ করেনি। এতে বোঝা যায় সর্বাত্মক অভিযান চালিয়ে দ্রুত বিশাল এলাকা নিজেদের দখলে নেয়ার চেয়ে কুর্দী মিলিশিয়াদের উপর চাপ তৈরি করাই বেশী উদ্দেশ্য।

রাশিয়া এবং আসাদের স্বার্থ হচ্ছে গোটা সিরিয়ার উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এই পথে বড় বাধা হচ্ছে আমেরিকা এবং কুর্দী মিলিশিয়ারা। তাই এসডিএফের বিরুদ্ধে তুর্কী অভিযানে তাদেরও স্বার্থ হাসিল হচ্ছে। রাশিয়া নিজেকে কুর্দী-বিরোধী হিসেবে প্রকাশ করতে চায় না। এই কারণে কুর্দী pkk সসস্ত্র সংগঠনকে আমেরিকা এবং ইউরোপ সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষনা করলেও রাশিয়া করেনি। বরং রাশিয়ায় এদের অফিসও আছে। রাশিয়া চায় আর্মেনিয়া, ইরান, ইরাক, সিরিয়া এবং তুরস্কের সীমান্ত সমস্যায় নিজেদের একটা হাত সব সময় ঢুকিয়ে রাখতে, যাতে ইরান এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে একটা কার্ড সব সময় নিজেদের হাতে থাকে। তাই রাশিয়া কুর্দীদের বিরাগভাজন হতে চায় না। এখন নিজেরা দায় না নিয়ে, তুরস্কের মাধ্যমে যদি সিরিয়ায় কুর্দী প্রভাব ধংস করা যায়, তাহলে সাপও মরলো আবার লাঠিও অক্ষত থাকলো।

ট্রাম্প প্রকৃতপক্ষেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে চায়। আমেরিকার ইতিহাসে সবচে কম যোদ্ধাবাজ প্রেসিডেন্ট সম্ভবত ট্রাম্প। তিনি আমেরাকার গতানুগতিক রাজনৈতিক পরিবার এবং পরিবেশ থেকে উঠে আসেননি। বরং তিনি একজন ঝানু বিজন্যাসম্যান। এই পটভূমিটা তার রাজনৈতিক জীবনেও প্রভাব ফেলছে। তিনি এখনো রাজনীতিবিদের চেয়েও বেশী ব্যাবসায়ীর দৃষ্টিতে যেকোন কিছুকে দেখতে চান। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কৃপনতার পরিচয় দেন। ঝুঁকি নিতে চান না। লাভের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত না হলে সেই সিদ্ধান্ত নেন না। নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি প্রদর্শন করতে পছন্দ করেন। এই জন্য তিনি সৌদী বাদশাহকে বিশাল জনসভায় অপমান করেন। কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে সৌদী বাদশাহকে সবার সামনে তুচ্ছ তাচ্ছ্বিল্য করেন নিয়মিত। শক্তি প্রয়োগ না করে, কোন রাজনৈতিক মূল্য না দিয়ে, হুমকী ধমকী দিয়ে কাজ আদায় করতে চান বেশী। এই কারণে তিনি ইরানে হামলা করেন নি। অথচ ইরান মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছিলো। অন্য কোন রাজনৈতিক ঘরানার প্রেসিডেন্ট হলে মার্কিন শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা এই ঘটনার জন্য ইরানকে মূল্য চুকাতে হতো। ট্রাম্প দেখলেন যে, সিরিয়ার এই মাইন্ডফিল্ডে ২০০০ মার্কিন সৈন্যকে ফেলে রাখার কোন কারণ নেই। কোন রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থও নেই। এই এলাকায় একজন মার্কিন সৈন্যও যদি প্রাণ হারায় তিনি সেটাকে দেখছেন বিনা কারণে বলিদান হিসেবে। এই বিষয়টা ট্রাম্পের গতকালের বক্তব্য থেকে আরো বেশী স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেন, “আমি আমেরিকান সেনা এবং কুর্দী যোদ্ধাদেরকে বলেছি তোমরা তুর্কী সীমান্ত থেকে সরে যাও। তুর্কীরা যদি তাদের সীমান্ত নিরাপদ করতে চায় তাহলে সেটা তাদেরকে করতে দেয়া উচিত।” তিনি আমেরিকান সেনাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “যারা নিজেদের সীমানা নিরাপদ করতে পারে না তারা কেন অন্য দেশের সীমানায় পাহারাদারী করবে?” তিনি সম্ভবত আমেরিকার মেক্সিকো সীমান্তের কথা বুঝিয়েছেন। তারপর বলেছেন: আমরা ৫০ বছর ধরে সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্ত পাহারা দিতে পারবো না। কুর্দী যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “তোমাদের হাতে বিমান আছে? তাহলে একটি বিমান শক্তির বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবে?”

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, ট্রাম্প ওবামার মতো কুটিল চক্রান্তকারী না হয়ে বাস্তববাদী হতে চেয়েছেন। ওবামাই মূলত সিরিয়া সমস্যাকে এত গভীর করেছেন। তিনি ইচ্ছে করেই আসাদ সরকারের পতন ঘটান নি। ইচ্ছে করেই কুর্দী যোদ্ধাদেরকে দিয়ে বিশাল করিডোর প্রতিষ্ঠা করেছেন। তুরস্ক বার বার এই এলাকায় ঢুকতে চাইলেও ঢুকতে দেননি। বিভিন্ন টালবাহানার মাধ্যমে সমস্যাকে গভীর করেছেন। ইরানকে এভাবে বেপরোয়া হতে ওবামাই সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এই জন্য ট্রাম্প যে সব সময় ওবামাকে দুষ্ট দুস্কৃতিকারী বলেন তিনি খুব একটা ভুল বলেন বলে মনে হয় না। ট্রাম্প দেখছেন যে, আমেরিকার সামনে দু’টি পথ খোলা। হয়তো তাকে কুর্দীদেরকে মিত্র হিসেব গ্রহন করতে হবে, আর না হয় পুরাতন মিত্র তুরস্কের সাথে মৈত্রী ধরে রাখতে হবে। দুইটাকে একসাথে ধরে রাখার সুযোগ নেই। দুই রশিতে পা দিয়ে কূটনৈতিক ভাষা দিয়ে তুরস্ককে দীর্ঘ দিন ধরে রাখা যাবে না। তুরস্ক নিশ্চয় অন্য শক্তিদের সহায়তা নিয়ে হলেও নিজের অখন্ডতার জন্য সবকিছু করবে। রাশিয়া চীনের দিকে আরো বেশী ঝুঁকবে। কুর্দীদেরকে ধরে রাখলে দীর্ঘ দিনের মিত্র তুরস্ককে হারাতে হবে। এটাকে ট্রাম্প আমেরিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদী অলাভজনক নীতি ভাবছেন। দুয়েকদিন আগে তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন: ‘কুর্দীদেরকে আমরা ব্যাবহার করেছি ঠিক। কিন্তু এর বিনিময়ে আমরা তাদেরকে প্রচুর টাকা এবং অস্ত্রসস্ত্রও দিয়েছি।” মানে, আমাদের কাছে তাদের আর পাওনা কিছু নেই। এই কথাগুলো কেবল বিশ্লেষণ নয়; বরং ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারনায় এই কথাগুলো হুবহু বলেছিলেন। তিনি ওবামার সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, তিনি তুরস্কের সাথে অসৎ খেলা খেলছেন। তখনই তিনি ঘোষনা দিয়েছিলেন যে, তিনি ক্ষমতায় গেলে সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে মার্কিন ডিপ স্টেটের অমতে গিয়ে কোন কিছুর পরিবর্তন করতে পারেন নি।

তাই এখন তিনি সময় বুঝে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে চান। তবে অভ্যন্তরীণ চাপ মোকাবেলা করার জন্য এবং এই ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই এটা বোঝানোর জন্য তুরস্কের বিরুদ্ধে হুমকী ধমকীও অব্যাহত রেখেছেন। তবে বাইরে হুমকী দিলেও নিরাপত্তা পরিষদে ঠিকই তুরস্কের অভিযানের পক্ষেই রায় দিয়েছে আমেরাকার প্রতিনিধী।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বোকা হয়ে গেছে ইউরোপের চিরাচরিত ষড়যন্ত্রী দেশগুলো। ফ্রান্স, বৃটেন এবং জার্মানী কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না যে, কুর্দী মিলিশিয়াদের হাত এভাবে ছেড়ে দেয়া হবে। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো, কুর্দী সসস্ত্র গ্রুপগুলোর উপর আন্তর্জাতিক বৈধতার মোহর লাগিয়ে তাদেরকে ইসরাইলের পর এই এলাকায় নিজেদের নতুন লাঠিয়াল বানানো। যাতে তুরস্ক, ইরাক, ইরানকে সব সময় সমস্যার মধ্যে নিমজ্জিত রাখা যায়। না হলে তুর্কী অভিযানের পর কুর্দী যোদ্ধাদেরকে বাঁচানোর জন্য ইউরোপ যেভাবে দৌঁড়ঝাপ করেছে তার কোন মানে হয় না। বিপন্ন কুর্দীদের জন্য তাদের খুব দরদ হচ্ছে এটা ভাবার কোন কারণ নেই। ১ মিলিয়ন সিরিয়াবাসীর মৃত্যু যাদেরকে এক চুলও নাড়াতে পারেনি, হাজার হাজার ইয়েমনবাসীর মৃত্যু পরেও যারা সৌদী আর আরব আমিরাতে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করেনি, তারাই কি এখন মানবতার খাতিরে তুর্কী অভিযানের বিরোধীতা করছে? ইউরোপকে এত ইনোসেন্ট আর সৎ ভাবার কোন কারণ নেই। ইউরোপ কতো অসত তা এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে, তারা একদিকে pkk কে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষনা করেছে, অন্যদিকে pkk/pyd/ypg এর নেতাদেরকে ইউরোপে অবাদ বিচরণের সুযোগ দিচ্ছে। এরা ইউরোপীয়ান সরকারগুলোর মনিটরিংয়েই ইউরোপ থেকে পিকেকের জন্য আর্থিক সাহায্য পাঠায়। কুর্দী গেরিলাদেন আর্থিক ফান্ড মূলত ইউরোপ থেকেই আসে। পিকেকের প্রতিষ্ঠাতা এবং আদর্শিক গুরু আব্দুল্লহ ওগলানের বিশাল বিশাল ছবি নিয়ে পুলিশের নাকের ডগায় ইউরোপের রাস্তায় মিছিল করে। অথচ ইউরোপে সরকারীভাবে ওগলান সন্ত্রসী। তারা কি ওসামা বিন লাদেনের ছবি নিয়ে কাউকে মিছিল করতে দিবে কখনো? শুধু তাই নয়, ইউরোপের সরকারের মন্ত্রী আমলাদের অফিসেও নিয়য়মিত এদের যাতায়াত হয়। দুই তিন দিন পূর্বেও এদের একটি প্রতিনিধী দল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করে এলিজি প্রাসাদে গিয়ে। কী পরিমান হিপোক্রেসী ভাবা যায়? তারা ভালো করেই জানে যে, প্রত্যেকটি কুর্দী সসস্ত্র গ্রুপই তাদেরই সন্ত্রসী ঘোষনাকৃত pkk এর শাখা-সংগঠন। জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল ওইদিন স্বীকার করে বলেছেন যে, ২০১৪ এর দিকে তুরস্কের সেফ জোন সংক্রান্ত প্রস্তাব না মানা ইউরোপের জন্য বড় ভুল ছিলো। আমাদের বোঝা উচিত ছিলো যে, নিজেদের সীমানার সাথে লাগানো এলাকায় তুরস্ক কোনদিনই কুর্দী মিলিশিয়াদেন স্বাধীন ভূমি মেনে নিবে না।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ অনেক চেষ্টা করেছেন ট্রাম্পকে তার সিদ্ধান্ত পাল্টাতে রাজী করাতে। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে এখন উত্তর ইরাকে অবস্থান করা ২০০ ফরাসী সৈন্যের নিরাপত্তা রক্ষার্থে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এই ঘটনা দুনিয়ার সামনে ইউরোপের দূর্বলতা এবং অক্ষমতাকে আরো একবার প্রমান করলো। আমেরিকা ছাড়া ইউরোপ এখন একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করে জয়লাভ করার সামর্থ্য রাখে না। এটা বসনিয়া যুদ্ধেও দেখা গিয়েছিল। আমেরিকার অংশগ্রহন ছাড়া ইঙ্গ-ফরাসীরা বেলগ্রেডের দিকে একটি গুলি ছোঁড়ার সাহসও করেনি। কিছু দিন পূর্বে ইরান যখন বৃটিশ তেলবাহী জাহাজ আটক করে তখন ইংল্যান্ড কিছুই করতে পারেনি। এখনো ইউরোপের এই সামর্থ্য এবং সাহস নেই যে, আমেরিকা প্রস্তান করলেও তারা কুর্দীদেরকে রক্ষা করবে এমন ঘোষনা দিবে।
ইউরোপের চেয়েও বেশী অপরিপক্ষতার পরিচয় দিয়েছে আরব লীগ। এরা ঘটনার ডায়নামিক চিত্র না বোঝেই হম্বিতম্বি করেছে। নিরাপত্তা পরিষদের অবস্থান দেখেই তাদের বোঝা উচিত ছিলো যে, এখানে পক্ষ-বিপক্ষ কারা? এমনও হতে পারে যে, বুঝেই করেছে। কারণ, তুরস্ককে ধরার এমন একটি সুবর্ণ সুযোগ হাত ছাড়া করতে চায় নি মিশর, সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত। আরব লীগ এখন এই তিন দেশের আঞ্চলিক সংস্থা হয়ে পড়েছে। বর্তমান আরব লীগের মহাসচিব আবুল গাইত মোবারক আমলের মন্ত্রী ছিলেন। এখনো তিনি আরব লীগের সামিটে বক্তব্য দেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়।