খয়রুত তাবিয়ীন জাহিদ ও সুফী হযরত উয়াইস আল কারনি (রহঃ) | TRT Bangla
Home ইসলামি সাহিত্য খয়রুত তাবিয়ীন জাহিদ ও সুফী হযরত উয়াইস আল কারনি (রহঃ)

খয়রুত তাবিয়ীন জাহিদ ও সুফী হযরত উয়াইস আল কারনি (রহঃ)

0
খয়রুত তাবিয়ীন জাহিদ ও সুফী হযরত উয়াইস আল কারনি (রহঃ)

মুহাম্মাদ ইয়াসির আরাফাত মল্লিক|


 

“من عرف الله لا يخفى عنه شئ”

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগের ইয়ামেনের একজন প্রসিদ্ধ জাহিদ সুফী ছিলেন হযরত উয়াইস আল কারনী রহঃ। নবী প্রেমে পাগল এই সুফী তাঁর পিতা-মাতার সেবার কারণে সাহাবী হওয়া থেকে বঞ্চিত হন। পিতা-মাতা ভক্ত রসূলের প্রতি নিবেদিত প্রাণ এই সুফী তাবেয়ী যখন শুনলেন ওহুদ যুদ্ধে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাঁত মুবারক শহীদ হয়েছে তখন তিনি রসূলের সম্মানে নিজের দাঁত ভেঙে ফেলেন।

হযরত উয়াইস আল কারনী রাঃ এঁর জীবন ছিল একেবারেই হতদরিদ্রের মতো। তিনি একাকিত্বকে ভালোবাসতেন ও দিনরাত পরম প্রভু আল্লাহ পাকের ইবাদতে মশগুল থাকতেন। তাঁর পড়শী দের কথা অনুযায়ী তাঁকে লোক পাগল মনে করত। এমনকি তিনি যখন কোন বসতিতে গিয়ে পড়তেন তখন ছেলেপুলেরা তার দিকে পাথর এসব ছুঁড়ে মারত। তিনি রোজা করতেন কিন্তু ইফতার থাকত না। যদি কখনো খেজুর পেতেন সেটি খেতেন আবার কাওকে পেলে দান করে দিতেন। তিনি বলেনঃ

من احب ثلاثة أشياء صارت جهنم اقرب إليه من حبل الوريد : الطعام اللذيذ و الملابس النفيسة و المجالسة مع الأغنياء.

অর্থাৎ যে (ব‍্যক্তি) তিনটি জিনিসকে ভালোবাসবে, জাহান্নাম তার গলার নালীর থেকেও নিকটবর্তী হয়ে যাবেঃ সুস্বাদু খাবার ও মূল্যবান পোষাক ও ধনীদের সাথে বৈঠক।

তিনি কখনো গোবরের মধ্যে থেকে কাপড় খন্ড জমা করে , সেগুলো পরিস্কার করে সেলাই করে পরিধান করতেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগের মানুষ হবার সত্বেও রসূল সাঃ এঁর সাথে তাঁর সাক্ষাতের সৌভাগ্য হয় নি। কিন্তু তাঁর বিষয়ে রসূল সাঃ ভবিষ্যতবাণী করেছেন। নিচে তাঁর বিষয়ে ভবিষ্যতবাণী করা কিছু হাদীস তুলে ধরলাম।

🌺قال النبي صلى الله عليه وسلم: أويس القرني خير التابعين (رواه أحمد)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ উয়াইস আল কারনী তাবেয়ীদের মধ‍্যে শ্রেষ্ঠ। (আহমাদ)

🌺 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ইয়ামানের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বলেনঃ

﴿اني لاجد نفس الرحمن من قبل اليمن ﴾

“নিশ্চয় আমি ইয়ামানের দিক থেকে রহমানের শ্বাস পাচ্ছি”

🌺 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

“يخلق الله تعالى الف ملك علي صورة اويس…”

” আল্লাহ তায়ালা ওয়াইসের আকারে একহাজার ফিরিশতা তৈরি করেছেন।”

🌺 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ

﴿في أمتي من يشفعه الله تعالى يوم القيامة في مقدار أصواف اغنام ربيعة و مضر”﴾ قال الصحابة رضي الله عنهم: من هو يا رسول الله؟ قال ﴿عبد من عباد الله﴾ قالوا ما إسمه؟ قال ﴿ أويس﴾ قالوا اين هو ؟ قال ﴿بقرن﴾…
“আমার উম্মতের মধ‍্যে এমন একজন আছেন কিয়ামতের দিন যাঁর শাফায়াত আল্লাহ তায়ালা রবীয়া ও মুজরের (গোত্রের) মেষসমূহের (আগনাম বা গ্বনাম মেষ / ছাগল/ ভেড়ার অর্থে আসে) লোমের পরিমাণে কবুল করবেন। সাহাবা গন (রাঃআঃ) বললেন, কে তিনি হে রাসূলুল্লাহ? তিনি বললেন, আল্লাহর বান্দাদের একজন। তাঁরা বললেন তাঁর নাম কি? তিনি বললেন, উয়াইস। তাঁরা বললেন, কোথায় তিনি? তিনি বললেন, করনে…”

এই মহান তাবেয়ীকে রসূল সাঃ এবং সাইয়িদুনা ইমাম হযরত আবু বকর সিদ্দীক্ব রাঃ এঁর যুগের পর হযরত উমর রাঃ ও আলী রাঃ তাঁর সাক্ষাত পান। এবিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যতবাণী করে বলেনঃ
“…ابو بكر لا يراه و يراه عمر و علي..”

এছাড়া রসূল সাঃ তার বিষয়ে ভবিষ্যতবাণী করেন যে এই ব‍্যক্তি অধিক চুল বিশিষ্ট হবেন ও তাঁর এক পাশে ও হাতের তালুতে এক দীনার পরিমাণ সাদা অংশ থাকবে।

এমন মহান ব‍্যক্তির সাথে যখন সাইয়িদুনা ইমাম হযরত উমর আল ফারূক্ব রাঃ ও ইমাম সাইয়িদুনা হযরত আলী ইবনু আবি তালিব রাঃ সাক্ষাৎ করলেন ও রসূল সাঃ এঁর বিষয়ে বললেন ও তাঁর সালাম পৌঁছে দিয়ে বললেনঃ

(النبي يسلم عليك و وصاك بالدعاء)

“নবী (সাঃ) আপনাকে সালাম দিয়েছেন ও দোয়ার (করার) জন্য অসিয়ত করেছেন।

তখন কারনী রাঃ সাইয়িদুনা উমর রাঃ বললেনঃ আপনি সমগ্র মুসলিমদের জন‍্য দুয়ার অধিকতর যোগ্য কারণ আপনি দুনিয়াতে সবার শ্রেষ্ঠ।

তখন উমর রাঃ বললেনঃ ” আমি মু’মিনদের জন্য দুয়া করি। কিন্তু আপনার নবী (সাঃ) এঁর অসিয়ত পালন করা উচিত।

তখন কারণী রহঃ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি বললেনঃ

“يا عمر! الشخص غيري”

“হে উমর (رضي الله عنه) ! আমি ছাড়া কেও”!

উমর রাঃ বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে জানিয়েছেন আর নিদর্শন যেটা তিনি বর্ণনা করেছেন সেটা তোমার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

তারপর কারনী রাঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাঠানো জুব্বা মোবারক পরিধান করলেন ও তাঁদের ছেড়ে চলে গেলেন। যখন তিনি দেরি করছিলেন তখন সাইয়িদুনা উমর ফারুক ও আলী হায়দার রাঃ তার কাছে গিয়ে দেখলেন তিনি সিজদা অবস্থায় মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন ও বলছেনঃ

“يا الهي! حبيبك محمد ﷺ أحال هذا الأمر إلي و وصاني بالدعاء الهي إغفر لأمة محمد ﷺ”

হে আমার প্রভু! আপনার হাবীব মুহাম্মাদ সাঃ এই কাজটি আমার উপর দিয়ে গেছেন এবং আমাকে দুয়ার অসিয়ত করেছেন, ইলাহী! উম্মতে মোহাম্মদ সাঃ কে ক্ষমা করে দাও!”

এমনি ছিলেন আমাদের সালাফগণ। আজকাল কিছু লোক নাটকবাজি করে জান্নাতে যেতে চায় আর কিছু লোক নেট ঘেটে , কীবোর্ড জেহাদ নামক আজেবাজে কথা বলে , খাওয়ারিজিপনা করে জান্নাতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। বাড়িতে মা বাবার খবর নেই তাঁরা কিবোর্ড মাস্টারি করছেন। এসব লোকের জন্য রয়েছে উত্তম শিক্ষা।


📷 চিত্রঃ সংগৃহীত (এডিটেড)

আপনাদের প্রিয় ওয়েবসাইট TRT Bangla এন্ড্রয়েড এপ্স লঞ্চ করেছে। প্রত্যেকে নিজের মোবাইলে ইন্সটল করতে ছবিতে ক্লিক করুন।
TRT Bangla

FREE
VIEW