আদম আঃ এঁর নাম যেভাবে আরবী ভাষার মাহাত্ম্যের সাক্ষর বহন করে

0
24

ইয়াসির আরাফাত মল্লিক|


আরবী ভাষা হল একটি পবিত্র ভাষা, আমাদের পাক কুরআনের ভাষা। শুধু কুরআন নয়, জান্নাতের ভাষা হবে‌ আরবী। আরবী ভাষার মাহাত্ম্য আমরা বিভিন্নভাবে দেখতে পাই।  আজকের আমরা আলোচনা করব আদম আঃ এঁর নাম নিয়ে।

মানব জাতির পিতা আদম আঃ কে চেনে না এমন মানুষ কম আছেন। পৃথিবীর বড়বড় ধর্ম যেমন ইসলাম, খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী ও ইহুদী ধর্মাবলম্বীগণের বিশ্বাস অনুযায়ী আদম আঃ হলেন প্রথম মানুষ। এমনকি হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ভবিষ‍্যপুরাণে আদম আঃ ও হাওয়া আঃ এঁর ঘটনা এসেছে যেখানে আদম আঃ কে সম্ভবতঃ আদিম ও হাওয়া আঃ কে হব‍্যবতী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বাইবেলের বুক অফ জেনেসিসের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৯ নম্বর ভার্সে  বাইবেলের প্রথম আদম শব্দ ব‍্যবহার হয়। সেখানে বলা হয়েছেঃ

“…and brought them unto Adam to see what he would call them: and whatsoever Adam called every living creature, that was the name thereof.”

আমি এই নামটির বিষয়ে বাইবেলের শারাহ ও ব‍্যখ‍্যাগ্রন্থে কোনো ভালো ব‍্যখ‍্যা পাই নি। সেখানে বলা হয়েছে হিব্রু আদম শব্দের অর্থ মানুষ। যেমন আরবীতে ইবনু আদম , আদমী এশব্দগুলো মানুষের জন্য ব‍্যবহার হয়। উল্লেখ্য আদম আঃ এঁর নাম থেকে ‘আদিম মানুষ’, ‘আদমী’, ‘আদমশুমারি’ এইসব শব্দ উদ্ভূত হয়েছে।

যাইহোক, ব‍্যখ‍্যাটা আমার কাছে যথাযথ মনে হল না। কারণ, আদম আঃ এঁর নাম থেকে আদম বা আদমী এসেছে যা মানুষের জন্য ব‍্যবহার হয়। কিন্তু আদম আঃ এঁর নাম কেন আদম রাখা হয়েছে?

আমি যখন পরে বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও আলিম মুহাম্মাদ বিন জারীর আত তাবারী রহঃ এঁর তারীখুত ত্ববারী পড়লাম সেখানে আমি এর উত্তর পেলাম। উক্ত গ্রন্থের প্রথম খন্ডের ৯০ পৃষ্ঠায়  হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ এঁর একটি কওল উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছেঃ

“…عن ابن عباس، قال بعث رب العزة عز و جل إبليس، فأخذ من اديم الارض، من عذبها و ملحها، فخلق منه آدم ومن ثم سمي آدم…”

এছাড়া আরো কিছু কওল তিনি উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেখান থেকে স্পষ্ট হয় যে আদম আঃ কে ‘আদীম উল আর্জ” বা ভূত্বক (যার আঠালো মাটি) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তাই আরবী ভূত্বকের ‘ত্বক’ বা আদীম থেকে আদম নাম রাখা হয়েছে। অতয়েব এর থেকে প্রমাণিত হয় আদম একটি আরবী শব্দ। আরবী শব্দের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব যে কতটুকু তাও এই নাম থেকে প্রতীয়মান হয়।


© টি আর টি বাংলা ডেস্ক