করোনাকালে সৌদি-আরবের অর্থনীতিতে জ্বালানি নির্ভরশীলতা কমিয়ে সফল!

0
36

করোনা মহামারিতে নিম্নমূখি অর্থনীতির সূচক। ভাটা পড়েছে রাজস্ব আয়ের উপরও। বেড়েছে বেকারত্ব আর অস্থিরতাও। এত কিছুর পরও ব্যয়সংকোচনের মতো নীতি হাতে নেয়নি বিশ্বের অন্যতম ধনি দেশ সৌদি আরব।

অন্য দেশগুলো যখন অর্থনীতির চাকা স্বচল রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে এমন মুহূর্তে ব্যয় বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্তও নিতে পেরেছিল অঢেল সম্পদ জমা করে রাখা এ দেশটি। এর সবই সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র জ্বালানী নির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে আসার কারণে। এমনটাই দাবি করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ব্লুমবার্গ।

সৌদি প্রেস এজেন্সি সালমানের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কারণেই করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে।’

মহামারীর প্রভাবে চাহিদা কমে যাওয়ার জ্বালানি খাত থেকে আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে ১০ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে নেমে যাওয়ার ধারণা করা হয়। বিপরীতে এ সময়ে দেশটির জ্বালানিবহির্ভূত আয় ১৪ শতাংশ বেড়ে ৩৬ হাজার কোটি রিয়েল হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশ্লেষকরা।

নভেল করোনাভাইরাস ও জ্বালানির দরপতনের দ্বিমুখী চাপ সামলাতে সৌদি কর্মকর্তারা মূল্য সংযোজন কর দ্বিগুণ বাড়িয়েছেন। এছাড়া কাস্টমস ফি বাড়ানো হয়েছে এবং সরকারি কর্মীদের জীবনযাপনের ব্যয় ভাতা কমানো হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের জন্য বেকারত্ব একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে এর হার বেড়ে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সৌদির ইতিহাসে বেকারত্বের এ হার সর্বোচ্চ। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটিতে বেকারত্ব কমিয়ে আনার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, তার পরবর্তী লক্ষ্য হবে সৌদি নাগরিকদের আয় বৃদ্ধি করা।

বিবৃতিতে সৌদি যুবরাজ জানান, আগামী দুই বছরে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) থেকে অর্থনীতিতে মোট ১৫ হাজার কোটি রিয়েল বিনিয়োগ করা হবে এবং আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই এ বিনিয়োগ বাড়তে থাকবে। এ বিনিয়োগের কিছু অংশ অর্থায়ন করা হবে সার্বভৌম তহবিলের কিছু সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ থেকে। যুবরাজ আরো জানান, পিআইএফের বিনিয়োগ থেকে রিটার্নের হার ৭ শতাংশের ওপরে রয়েছে।