কারাবাখ জয়ের আনন্দে মতোয়ারা আজারবাইজান

0
347

বাকু|


মঙ্গলবার রাতে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ টেলিভিশন বার্তায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেন।

এরপরই গোটা আজারবাইজান জুড়ে আনন্দ মিছিল শুরু হয়। রাজধানী বাকুতে মিছিল শুরু করে আজারবাইজানিরা। এই চুক্তি মূলত বিজয়ের দলিল বলে মনে করছেন তারা।

এসময় তারা আজারবাইজান ও তুরস্কের পতাকা হাতে মিছিল করে। আতসবাজির আলোতে জ্বলজ্বল করে উঠে বাকুর আকাশ।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে লড়াই বন্ধ করতে মঙ্গলবারের চুক্তিকে আর্মেনিয়ার পরাজয়ের দলিল হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

ইলহাম আলিয়েভ টেলিভিশন বার্তায় জানান, নতুন চুক্তির মাধ্যমে বাকু ও ইয়েরেভানের মধ্যকার কারাবাখ বিরোধের অবসান হয়েছে।

এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

আলিয়েভ বলেন, ইয়ারেভান স্বেচ্ছায় এই চুক্তি করেনি বরং বাকুর কঠিন মনোভাবের কারণেই আর্মেনিয় প্রধানমন্ত্রী নিকোল প্যাসিনিয়াস এই চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে আজারবাইজান কারাবাখের ৩০০ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

আলিয়েভ জানান, আগদাম জেলা ২০ নভেম্বর মধ্যে বাকুর নিকট হস্তান্তর করা হবে এবং কালবাজার ১৫ নভেম্বর ও লাচিনকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রাশিয়া তার শান্তিরক্ষী বাহিনীর ১,৯৬০ সৈন্য এবং ৯০টি সাঁজোয়া যান নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চল এবং লাচিন করিডোরে মোতায়েন করবে।

এসময় তিনি কারাবাখে তুরস্ক ও রাশিয়ার যৌথ শান্তিরক্ষা মিশনেরও ঘোষণা দেন।

নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে দুই সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মধ্যে সম্পর্ক ১৯৯১ সাল থেকে উত্তেজনা বিরাজমান। তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

এরইমধ্যে আর্মেনিয়া বারবার আজারবাইজানের বেসামরিক লোক ও সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করেছে, এমনকি তিনটি মানবিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

আজারবাইজানের প্রায় ২০ ভাগ অঞ্চল প্রায় তিন দশক ধরে অবৈধভাবে আর্মেনিয়ার দখলে রয়েছে।


সূত্র : আনাদোলু , নয়া দিগন্ত ও অ্যাজভিশন