শয়তানী শক্তিঃ ফ্রান্সকে কেন ধর্ম , বর্ণ নির্বিশেষে বয়কট করা উচিৎ

0
126

মুহাম্মাদ ইয়াসির আরাফাত মল্লিক|


 

বর্তমানে যখন ইমানুয়েল ম্যাক্রণ ও ফরাসীদের ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের জন্য মুসলিমরা ফরাসী পণ‍্যদ্রব‍্য বয়কট করতে শুরু করেছেন তখন মুসলিম ও ইসলামের বিষয়ে অজ্ঞ অথবা ফ্রান্সের বিষয়ে অজ্ঞ উগ্রবাদীরা ইসলামের সাথে শত্রুতা বশতঃ মূর্খামি করে ম্যাক্রণকে সমর্থন করে যাচ্ছে। হতে পারে তিনি ইহুদী অথবা খৃষ্টান। তবে আমরা যদি ইতিহাসের দিকে একটু গভীর ভাবে মনোনিবেশ করি অথবা ফ্রান্স সম্পর্কে আমরা একটু গভীরভাবে আলোকপাত করি তাহলে কিন্তু ফ্রান্সে প্রতি উৎসাহের তৃষ্ণা টুকুই আর থাকবে না।

একটা ভিন্ন দিক, একটা ভিন্ন প্রেক্ষাপট, যা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়েয় ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, সেই বিষয়টা আজ আমরা আলোচনা করব। মধ‍্যযুগে যখন মুসলিমরা জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সামরিক, শিল্প , বাণিজ্য, দর্শন সহ সর্বক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে সেই সময় ইউরোপ ছিল আঁধারের আমানিশায় নিমজ্জিত। কিন্তু ১৭৮৯ সালের দিকে ইউরোপে বিপ্লব শুরু হয়। যেটা ইতিহাসে’ফরাসী বিপ্লব’ নামে পরিচিত।

ইতিহাসের অতিরঞ্জণে অনেকেই এই বিপ্লবকে ইউরোপের বিপ্লবী মশালের অগ্নিসংযোগ হিসেবে মনে করলেও পুঁথির আড়ালে চলে যাওয়া ইতিহাসটা কিন্তু অত্যন্ত ভয়ংকর। ইতিহাস দেখলে দেখতে পাবেন প্রথম যে ফরাসী বিপ্লব শুরু হয় তা কোনো সূদূরপ্রসারী ফলাফল তো বয়ে আনে নি, উপরন্তু ডেকে এনেছিল মহা ধ্বংস। শুধু তাই নয়, ইউরোপের প্রথম তথাকথিত বিপ্লব ফ্রান্সে সংঘটিত হলেও কিন্তু শিল্পবিপ্লব প্রথম ঘটে ইংল্যান্ডে। এটাও ফরাসী বিপ্লবের একটা চরম ব্যর্থতাও বলা চলে।

ফরাসী বিপ্লবের প্রেক্ষাপট অনেকটাই সুদূরপ্রসারী হলেও কিন্তু সময় ও যুগের বিবেচনায় এবং তদানীন্তন ফ্রান্সের ও ইউরোপের অবস্থার প্রেক্ষিতে এটা অনেকটাই আকস্মিক ছিল। ফরাসি বিপ্লবকে যদি একটু গভীর ভাবে দেখা যায়, তাহলে এই বিপ্লবের পেছনে যে একটা শক্ত হাত লক্ষ্য করা যায়। আমাদের আলোচনা এই শক্ত হাতটি নিয়ে। কে বা কারা এই বিপ্লবের জন্য দায়ী ও তাদের উদ্দেশ্য কি?

ইউরোপ তখন খৃষ্ট ধর্মের প্রবল প্রভাব ছিল। ঘটনাটি জার্মানের ব‍্যভেরিয়ার ইঙ্গোলস্ট‍্যাডের।‌ এসময় এখানে ইয়াসূ’য়ী বা Jesuit দের প্রবল প্রতাপ ছিল। ইঙ্গোল্স্ট‍্যাড বিশ্ববিদ্যালয়ে অ‍্যাডাম উইজাপ্ট নামক এক দর্শনের অধ‍্যাপক ছিলেন। তিনি একটি ধর্ম বিদ্বেষী শয়তানের সমাজ খোলেন ফ্রীম্যান্সরীর মতো।তিনি ধর্ম ও সাধারণ সমাজকে বদলিয়ে নতুন ও শয়তানের অনুসারী একটা সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন। তাঁর সংস্থাটি ইলুমিনাতি (İlluminati) নামে পরিচিত। ইলুমিনাতি শব্দটি illuminate হলেও প্রকৃতপক্ষে শয়তানের পূজারী এই সংস্থাকে Darkening বলা চলে। এটি ছিল ফ্রীম‍্যাসনরীর মতোই একটি গুপ্ত সমাজ বা Secret Society। তিনি আউল অফ মিনেরভাকে চিহ্ন হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে প্রাথমিকভাবে অপর এক শয়তানের পূজারী সংগঠন ফ্রীম্যাসনরীর সাথে তাঁর যোগাযোগ না থাকলেও পরে তিনি এই দলের সসংস্পর্শে আসেন ও তাঁরা ধর্মবিরোধী ও সমাজবিরোধী শয়তান ও দাজ্জালের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ শুরু করেন। হ‍্যাঁ ফরাসী বিপ্লবের পেছনে এই গুপ্ত সংস্থাগুলো ও তাদের ষড়যন্ত্র দায়ী ছিল।

এই গুপ্ত সংস্থার লক্ষ্য ছিল বিশ্বের শাসনক্ষমতা করায়ত্ত করে তাদের প্রভু শয়তানের শাসন কায়েম করা, যেটা তাদের ভাষায় নতুন বিশ্বব্যবস্থা বা The New World Order নামে পরিচিত। এদের কিছু লক্ষ‍্য রাল্ফ এপারসনের লেখা ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ বইতে উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে তিনি স্পষ্ট লিখেছেনঃ

“The New World Order will include changes in:

the family:

homosexual marriages will be legalized;
parents will not be allowed to raise their
children (the state will;) all women will be
employed by the state and not allowed to
be “homemakers”; divorce will become ex-
ceedingly easy and monogynous marriage will be slowly phased out;

the workplace:

the government will become the owner of
all of the factors of production; the private ownership of property will be outlawed;

in religion:

religion will be outlawed and believers
will be either eliminated or imprisoned;
there will be a new religion: the worship
of man and his mind; all will believe in
the new religion.”

ফরাসী বিপ্লব সহ বিভিন্ন বিপ্লব, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সহ বিভিন্ন আল্লাহদ্রোহী মতবাদ যেমন কমিউনিজম, জায়নিজম, সোশালিজম সহ বিভিন্ন মতবাদের পেছনে এই গুপ্ত সমাজ বড় ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন যুদ্ধ ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে যখন বিশ্বের শাসনক্ষমতায় তারা এর তখন তারা বিশ্বকে নিজেদের দাস বানাতে বিভিন্ন সংস্থা গড়ে তুলল ও তাদের পরিচালক হয়ে বসল। এসব সংস্থাগুলোর মধ‍্যে রাষ্ট্রসংঘ, ন‍্যাটো ইত‍্যাদী উল্লেখযোগ্য।

এরপর তারা দেশে দেশে জাতীয়তাবাদ, মার্ক্সবাদ, ডেমোক্রেসি প্রভৃতি মতবাদের নামে তাদের শয়তানী মতবাদের প্রচার ও প্রসার ঘটাতে লাগল ও সুষ্ঠু সমাজ ও বিশ্বকে কলুষিত ও যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে ছাড়ল। বর্তমান সমাজে মানুষ পশুদের থেকে অধম হয়ে উঠেছে। তথাকথিত স্বাধীনতার নামে অশ্লীলতা ও অভদ্রতা চরম আকার ধারণ করেছে। ইলুমিনিতি জোর চেষ্টা করে যাচ্ছে, মহান স্রষ্টার ধর্ম ইসলাম সহ অন‍্যান‍্য ধর্ম তুলে দিয়ে বিভিন্ন মতবাদ দিয়ে শয়তানের ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা ও পৃথিবীকে জাহান্নাম বানিয়ে ফেলা। ইলুমিনাতির সদস‍্যরা সর্বত্র তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এরা অনেকেই ধর্মবিরোধী মনে হলেও গোপনে তারা শয়তানের পূজারী। এদের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। যাদের ৩৩ তম স্তরটি শেষ স্তর। ইলুমিনাতির বিভিন্ন চিহ্ন রয়েছে। যা দিয়ে তারা তাদের উপস্থিতির প্রমাণ দেয়। আমেরিকার ডলার থেকে শুরু করে সৌদি সর্বত্র তাদের দাজ্জালী চিহ্নের অস্তিত্ব রয়েছে। এদের সদস্যরা বিভিন্ন বড়বড় পদে রয়েছে। এছাড়া এরা তাদের মতবাদ প্রচার ও প্রসারের জন্য শিল্প কলা শিল্পীদের ব‍্যবহার করে। এর বহু প্রমাণ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গেলে তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটাতে চায় যার উজ্জ্বল প্রমাণ হল সাদ্দাম হুসাইন।

এইসব ধর্মদ্রোহী শয়তানদের গড় সমূহের একটি হল ফ্রান্স। আফ্রিকাকে শোষণ করে বড়লোক হওয়া এই ফ্রান্সের স্বার্থে যখন তুরস্ক বড় আঘাত হেনেছে , তখন তারা ইসলাম ধর্মের অবমাননা শুরু করেছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে শয়তানের দোসররা অন‍্যান‍্য ধর্মের বন্ধু। তাই শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সকলকেই ঐক‍্যবদ্ধ হতে হবে। ফ্রান্সকে বয়কট করার অর্থ ইলুমিনাতি চক্রের একটি মূল গড়কে দূর্বল করে দেওয়া। তাই আসুন আমরা আজ থেকে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটি সুস্থ বিশ্ব গড়ে তুলতে ফ্রান্স সহ ইলুমিনাতি ও দাজ্জালী ও শয়তানী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক‍্যবদ্ধ হই।

সূত্রঃ

– New World Order by Ralph Epperson
– La’batul Mutanawwireen Wan Nizam Ul Aalami Al Zadeed

আরো পড়ুন

– The International Jew by Henry Ford

– The Illuminati by Jim Marrs

[ উপরোক্ত বইসমূহ থেকে অথবা ইন্টারনেটে খুঁজলে এবিষয়ে বহু তথ‍্যবহুল বই বিভিন্ন ভাষায় পাবেন]


©টি আর টি বাংলা ডেস্ক