অর্থ কেলেঙ্কারিতে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্ত

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিলের (ওয়ানএমডিবি) অর্থ কেলেঙ্কারির প্রথম মামলায় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। তার বিরুদ্ধে আনা মিলিয়ন মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুর্নীতির দায়ে সাতটি অভিযোগের সবগুলোতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি।

এই রায়ের ফলে নাজিব রাজাকের ১৫-২০ বছরের সাজা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন নাজিব।

আজ মঙ্গলবার কুয়ালা লামপুর হাই কোর্টের বিচারক মোহাম্মদ নাজিম মোহাম্মদ গাজ্জালি এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারক বলেন, “এ মামলার সমস্ত তথ্যপ্রমাণ বিচার করে দেখা গেছে, প্রসিকিউশন তাদের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯ সালে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ওয়ানএমডিবি তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নাজিব। তবে বিনিয়োগের বদলে এই তহবিলের অর্থ বিলাসী জীবনযাপন, হলিউডের একটি চলচ্চিত্র ও একটি সুপারইয়টের পেছনে ব্যয় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে থাকা ৪২টি অভিযোগের মধ্যে অধিকাংশই ওয়ানএমডিবি সম্পর্কিত। এর কেন্দ্রে আছে ওয়ানএমডিবির একটি ইউনিট এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল থেকে নাজিবের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চার কোটি ২০ লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিত সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

এ মামলায় অর্থ পাচারের তিনটি, শপথ ভঙ্গের দায়ে তিনটি ফৌজদারি অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। রায়ে এর সবগুলো ধারাতেই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া নাজিবের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও অনেক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিচারকাজ চলছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মামলায় বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ সাত ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে।

দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি মামলার শুনানিতে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছিলেন।

তবে বিচারক তার রায়ে সবগুলো ধারাতেই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

এই মামলাটিকে মালয়েশিয়ার আইনের শাসন এবং দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টার পরীক্ষা হিসাবে দেখা হচ্ছে।মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় তহবিল ওয়ানএমডিবি স্ক্যান্ডাল একটি বৈশ্বিক দুর্নীতির জাল উন্মুক্ত করেছে।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন নাজিব রাজাক। তার বিরুদ্ধে ২০১৫ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন বিনিয়োগ তহবিল ১এমডিবি’র ৭০ কোটি মার্কিন ডলার সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাজিবের গঠিত ওই তহবিল থেকে গায়েব হয়ে যাওয়া ওই অর্থের কোনো হিসেবও পাওয়া যায়নি। ক্ষমতায় থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হয়নি।

২০১৮ সালের ৯ মে’র সাধারণ নির্বাচনে মাহাথির মোহাম্মদের কাছে হেরে যাওয়ার ক’দিন পর থেকেই নাজিবের বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়।

প্রথমে তদন্তের স্বার্থে নাজিব ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে মালয়েশিয়ার ভ্রমণ কর্তৃপক্ষ। এরপর তার বাসভবনে হঠাৎ করেই তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশিতে মোটা অংকের বৈদেশিক মুদ্রা এবং বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল পণ্য জব্দ করার কথা জানানো হয়।

সর্বশেষ ওই বছরের জুনের শেষদিকে পুলিশ জানায়, অভিযান চালিয়ে নাজিব রাজাকের বাড়ি থেকে ২৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যমানের জুয়েলারি সামগ্রী আটক করা হয়েছে। আটকের তালিকায় বিপুল পরিমাণ গহনা, হাতব্যাগ ও নগদ টাকা ছিল।