সুদানে বন্দুকধারীদের হামলায় ২০ জন নিহত!

সুদানের দক্ষিণ দারফুর রাজ্যের একটি গ্রামে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গোত্র প্রধানরা। এলাকাটি দক্ষিণ দারফুরের রাজধানী নিয়ালা থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয় এক নেতা শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ঘোড়া ও উটে চড়ে হামলাকারীরা উম দস এলাকায় গ্রামবাসীদের ওপর নির্বিচার গুলি চালিয়েছে।

ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “কয়েক বছর আগে মিলিশিয়ারা হামলা চালিয়ে আমাদের জমিগুলো দখল করে নেয় আর এখন তারা আমাদের বাড়ি ও খামার থেকে আমাদের তাড়িয়ে দিতে চায়। কোথায় সরকার? কেন তারা আমাদের রক্ষা করতে আসছে না?”

এর আগে উত্তর দারফুরেও অজ্ঞাত মিলিশিয়ারা প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল। তাদের হামলার মুখে কর্তৃপক্ষ ১৩ জুলাই ওই রাজ্যের সহিংসতা কবলিত এলাকাগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয়।

২০০৩ সালে প্রধানত অনারব বিদ্রোহীরা খার্তুম সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে সুদানের দারফুর অঞ্চলজুড়ে সংঘাত শুরু হয়। বিদ্রোহ দমন করতে মাঠে নামে সরকারি বাহিনীগুলো ও প্রধানত আবর মিলিশিয়ারা। এই দুটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে ব্যাপক নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ আছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতে প্রায় তিন লাখ লোক নিহত হয়েছে।

দারফুরে আরব মিলিশিয়ারা এখনও আছে। তারা নিজেদের দখল করা ভূমির নিয়ন্ত্রণও ধরে রেখেছে। কয়েক বছর ধরে সেখানে গুরুতর কোনো লড়াই না হলেও দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব অমীমাংসিত অবস্থায়ই রয়ে গেছে।

দেশটির সাবেক একনায়ক ওমর আল বশিরের পতনের পর সামরিক বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সুদানের ক্ষমতায় থাকা বেসামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধ অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা বশির সরকারবিরোধী বিদ্রোহী বাহিনীগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

অস্থিরতা কবলিত দারফুরে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বশিরকে ফেরারি ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

গত বছরের এপ্রিলে বশিরের পতন হয়, তা সত্ত্বেও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা দারফুর অঞ্চলের রাজ্যগুলোর গর্ভনরের পদ ধরে রেখেছিলেন। গত সপ্তাহে তাদের বদলে বেসামরিক গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান এই দাবিটি পূরণ হওয়ায় ওই অঞ্চলে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।