তরবারি হাতে খুতবাহ দেয়ার কারন জানালেন আয়াসোফিয়ার খতিব।

চলতি মাসের ১০ তারিখে তুরস্কের ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের রায় দিয়েছে দেশটির শীর্ষ আদালত।

ওই রায়ের পর দীর্ঘ ৮৬ বছর পর গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুম’আর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে পুনরায় মসজিদ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করল আয়াসোফিয়া গ্রান্ড মুসলিম। জুম’আর নামাজে খোদ উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

জুম’আর আজানের প্রায় ঘণ্টা দেড়েক আগেই মসজিদে উপস্থিত হয়ে বিখ্যাত ক্বারীদের কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত শুনেন তিনি। ক্বারীদের তেলাওয়াত শেষ হওয়ার পর এরদোগান নিজেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন।

এরপরে মসজিদের চারটি মিনার থেকে চারজন মুয়েজিন আজান দেন। জুম’আর খুতবাহ প্রদান ও নামাজের ইমামতী করেন তুরস্কের ধর্মমন্ত্রী প্রখ্যাত আলেম প্রফেসর শায়েখ আলী আরবাস। সূরা ফাতাহ এর প্রথম আয়াত খচিত একটি তলোয়ার হাতে নিয়ে তিনি খুতবাহ প্রদান করেছিলেন।

তলোয়ার হাতে নিয়ে খুতবা দেওয়ার প্রসঙ্গে শায়েখ আলী আরবাস সাংবাদিকদের বলেন, বিজয়ের প্রতীক হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবে তলোয়ার নিয়ে খুতবাহ দেওয়ার নিয়মটি ধরে রাখা হয়েছিল। কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তলোয়ার নিয়ে ৪৮১ বছর যাবত আয়াসোফিয়ায় জুম’আর খুতবা দেওয়া হয়েছিল। ইন-শা আল্লাহ, এখন থেকে আবার আমরা এই ঐতিহ্যটি পালন করে যাব।

আয়াসোফিয়া জামে মসজিদটি কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের প্রতীক সমূহের মধ্যে অন্যতম প্রতীক স্মরণ করিয়ে দিয়ে শায়েখ আলী আরবাস বলেন, প্রায় ৫০০ বছর যাবত আয়াসোফিয়া মসজিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল ও অসংখ্য আল্লাহ’র বান্দা এখানে নামাজ পড়েছিলেন এবং নিজেদের ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেছিলেন। সোনালী বছরগুলোতে আয়াসোফিয়ার প্রতিটি কোণে কোণে যেভাবে ধর্মীয় দারস ও কুরআনের জ্ঞান শিক্ষাদানের মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল, আমরা আবার সেই মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করব।

তিনি বলেন,মানুষ গড়ার কাজেও মসজিদ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবায়ে কেরামকে মসজিদেই তারবিয়াতের মাধ্যমে গড়ে তুলেছিলেন। আমরাও আমাদের যুবসমাজ ও ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মসজিদে তারবিয়াতের মাধ্যমে গড়ে তুলতে চেষ্টা করব।

সূত্র:ডেইলি সাবাহ