আল সৌদ পেট্রোডলারের ভাড়াটিয়া বাহিনী ও একজন দাখিল পাশ মাওলানা !

অরিজিনাল কিছু প্রডিউস করতে বুদ্ধিবৃত্তিক “মুরোদ” লাগে, আর কাইজ্জ্যা করতে একটা জিহ্বাই যথেষ্ট। ছাগলের বাচ্চার আজন্ম হিংসা হাতির বাচ্ছার প্রতি। এই হাতির বাচ্ছাকে অচ্ছুৎ না করতে পারলেতো লোকের চোখে পড়বে না! তাই নাযিল হইল “আল সৌদ পেট্রোডলার ভাড়াটিয়া বাহিনী” যাহাদের কোনো “মুরোদ” নাই এইটা বুঝারও “মুরোদ” আমাদের নাই; তাইতো আমরা উহাদের মাথায় তুলিয়া নাচি!

যখন পেট্রোডলারের নাচনকোঁদন ছিলোনা তখন ওহাবিজম এখানে তিতুমির প্রডিউস করেছিলো, এই ওহাবিজম প্রভাবিত মানুষগুলোই ভারতবর্ষে ইংরেজ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে আজাদির ঝাণ্ডা তুলে শাহদাতের নাজরানা পেশ করেছিলো। সেসময় মক্কায় চিল্লায় গিয়ে লোকগুলি মুজাহিদ হয়ে ফিরে আসতো। আহা!

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়শই রসিকতা করিয়া বলে, যতদিন ফক্স নিউজ আছে ততদিন আমার কোন চিন্তা নাই। যতদিন তেলের গন্ধওয়ালা ডলার আছে, ততদিন এই “মুরোদহীন” এসি-রুম-বেসড দা’য়ী দেরও কোন চিন্তা নাই। একটা সোয়াহী বাহিনী আছে ওনাদের একেবারে ফক্স নিউজ চ্যানেলের মতো। আর ওনারা যতই কপিপেস্ট করুক, “যেহেতু ওনাদের লেভেলের আলেমদের নিয়ে কথা বলাও পাপ”, তাই আমরা চুপ থাকার “হিকমাহ” অবলম্বন করিব!

পুনশ্চ ১: একটা পিউর একাডেমিক রিসার্স করতে গিয়ে একজন গবেষক যদি সেকেন্ডারি সোর্স হিসেবে গত একশত বছরের ইসলামী স্কলারদের (যাদের ওরিজিনাল রচনার মুরোদ আছে) রচনার একটা বিবলিওগ্রাপী তৈরী করে, তবে ঐ লিষ্টে দক্ষিন এশিয়ার লেখকদের মধ্যে এক “দাখিল পাশ মাওলানা” ছাড়া আর কয়জনকে রাখা যাবে?

পুনশ্চ ২: গত পঞ্চাশ বছরের ইসলামিক স্কলারশিপ সচেতন কিংবা অবচেতন ভাবে এই দাখিল-পাশ-মাওলানা প্রভাবিত। আর যারা গালাগালি করে, তারা এত বেশী প্রভাবিত যে “টিলা” হিয়ে “পর্বতের” উপস্থিতি সহ্য করতে না পেরে খিস্তীখেউর করে আরকি!

পুনশ্চ ৩: আমি মাওলানার একজন একাডেমিক পাঠক এবং অনেক বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করি। কিন্তু এ দেশে যারা তাকে গালি দিয়ে নিজেদের রুটিরুজির ব্যাবস্থা করে, তাদের সারা জীবনের মেহনত মাওলানার আলীগড়ের একটা বক্তৃতার সমান হবে তো?

মুহাম্মাদ কাওসার আহমেদ (পিএইচডি)
এসোসিয়েট প্রফেসর
আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।