হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমদ ইয়াসীনের ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার!

💎হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমদ ইয়াসীনের ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার!

✨প্রশ্নকর্তাঃ ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হবার পর আজ ৫০ বছর অতিবাহিত হল । একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আপনার এই বিষয়ে অভিমত কি ?

শায়েখঃ আমি আগেও বলেছি ইসরায়েল জুলুম এবং সীমালঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । মিথ্যা ও অত্যাচারের মাধ্যমে তৈরি বস্তুর ধ্বংস অনিবার্য ।

প্রশ্নকর্তাঃ ক্ষমতাই কি তাদের অবস্থান শক্ত করে নি ?

শায়েখঃ ক্ষমতা চিরস্থায়ি নয় । প্রত্যেকেই বাচ্চা থেকে কিশোর হয়ে বৃদ্ধ হয় আর একসময় নিঃশেষ হয়ে যায় । ঠিক তেমনি একটি দেশেরও সময়-সীমা আছে যখনই সেই সীমা অতিক্রম করে তখনই ধ্বংস শুরু হয় ।

প্রশ্নকর্তাঃ তাহলে ইসরাইল এখন কোন পর্যায়ে আছে ?

শায়েখঃ আমি বলছি যে ইসরাইল আগামী শতাব্দীতেই ধ্বংস হবে । ঠিক ২০২৭ এর প্রথম চতুর্থাংশে , ইসরায়েল আর থাকবে না ইনশাআল্লাহ্‌ ।

প্রশ্নকর্তাঃ ঠিক এই সময়টা কেন ?

শায়েখঃ কারন আমি কুরআনে বিশ্বাস করি । কুরআন আমাদের বলে প্রত্যেক প্রজন্ম ৪০ বছরে পরিবর্তন হয় । প্রথম ৪০ বছর ছিল নাকবার (দুর্ঘটনার) । দ্বিতীয় ৪০ বছর ছিল প্রতিরোধ , আহ্বান , সংগ্রামের । আর তৃতীয় ৪০ বছর হবে বিজয়ের ইনশাল্লাহ । কুরআনই এমন বলে । কারন আল্লাহ ইসরাইল বাসিদের ৪০ বছর সিনাই উপত্যকায় থাকতে নির্দেশ দিয়েছিলেন , কেন ? কেননা তিনি চেয়েছিলেন এই ভিতু প্রজন্মকে একটি নতুন প্রজন্ম দিয়ে প্রতিস্থাপিত করতে ।

আমাদের নাকবার (দুর্ঘটনার) প্রথম প্রজন্ম চলে গেছে । এখন আমাদের প্রতিরোধ ও সংগ্রামের প্রজন্ম এসে গেছে । আর পরের প্রজন্ম হবে স্বাধীনতার ।

প্রশ্নকর্তাঃ সায়েখ আহমাদ ইয়াসিন , আপনি কিভাবে ভবিষ্যৎ দেখতে পান ?

শায়েখঃ আমাদের এই রাস্তা উর্বর নয় । এখানে অনেক ত্যাগ ও ধৈর্যের প্রয়োজন । কিন্তু ভবিষ্যৎ আমাদের , আর এটা আসছে । এটা আল্লাহের ওয়াদা । আর আল্লাহ কখনোই তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না ।

প্রশ্নকর্তাঃ হতাশা থাকা সত্তেও , এমন কি আছে যেটা জনগণকে নিয়ন্ত্রন করছে ?

শায়েখঃ যদি মাঝিদের (নেতা) মনে এই হতাশায় জিদ তৈরি না হয় তবুও সমাধান তাদের পেছন পেছনই থাকবে তারা যেখানেই যাক না কেন । কুরআন বলে “তোমরা ধারণাও করতে পারনি যে, তারা বের হবে” (সূরা হাশর , ৫৯;২) এর মানে মুসলিমরা ভেবেছিল তারা কখনো ইহুদীদের দুর্গ জয় করতে পারবে না ।

এরপর আল্লাহ বলেন “এবং তারা মনে করেছিল যে, তাদের দূর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহর কবল থেকে রক্ষা করবে” (সূরা হাশর , ৫৯;২) । আর এটাই আমাদের বাস্তবতা কিন্তু মুসলিমরা বিজয় অর্জন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে । আমরা প্যালেস্টাইন বিজয়ের সামর্থ্য নিয়ে দ্বিধান্বিত । আমরা আমাদের সামর্থ্য ,সম্ভাবনা ও ভবিষ্যতের উপর সন্দেহ পোষণ করছি ।

আর আমাদের শত্রুরা বলে তাদের কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী আর্মি আছে । কে তাদের রুখতে পারবে ?!

তারা তাদের ক্ষমতার বরাই করছে আর আমরা আমাদের দুর্বলতার ভয় করছি । কিন্তু আল্লাহ সর্বদা জমিনে নিজের হুকুম চান । যখন সেই সময় আসবে মুহূর্তের মধ্যে এর অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাবে । দুনিয়াতে আর কোন বিশৃঙ্খলা থাকবে না । কুরআন বলে তারা দুর্নীতিগ্রস্থ এবং তারা দুনিয়ায় বিশৃঙ্খলা করে । আল্লাহ বলেন “আল্লাহ্‌ তাঁর কাজ সম্পন্ন করেই থাকেন, কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।” (সূরা ইউসুফ , ১২;২১)