করোনা সংকটে বাংলাদেশী ভাই বোনেদের পাশে তুরস্ক, জরুরী সহায়তা ৩০০০ দরীদ্র বাংলাদেশীকে

 

ইস্তাম্বুল|


করোনা সংকটের সময় বাংলাদেশী ভাইবোনের কথা ভুলে গেল না তুরস্ক। এবার সরকারীভাবে ৩০০০ বাংলাদেশী দরীদ্র গৃহস্থালির জন্য জরুরী সহায়তা এল ইস্তাম্বুল থেকে। এসংবাদ জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

তুরস্ক বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় মুসলিম পবিত্র রোজা মাসের প্রাক্কালে করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের তিন হাজার দরিদ্র পরিবারের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা দান করেছে।

“আমরা বাংলাদেশে আমাদের ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়িয়েছি, যাঁরা কোভিড -১৯ মহামারী এবং এর অর্থনৈতিক পরিণতি দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন,” বাংলাদেশে তুর্কি রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান এক অনুষ্ঠানে প্রাপক পরিবারকে সম্বোধন করে একথা বলেন।

দক্ষিণ এশিয়ার এই মুসলিম দেশটি করোনাতে এ পর্যন্ত ১২৭ জনের মৃত্যুর ও ৪,১৮৬ জনের নিশ্চিত আক্রান্তের খবর দিয়েছে। ১০৮ জন আরোগ্য লাভ হয়েছে।

তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিকা) ,দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনার প্রেসিডেন্সি, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট এবং তুরকি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন তুর্কি সরকারের তরফ থেকে এই সামগ্রী দান করেছে।

খাবারের মধ্যে চাল, রান্নার তেল এবং সাবান ইত‍্যাদী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে তুরান জানিয়েছেন পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগে আজকের খাদ্য সহায়তা উভয় দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একটি নিদর্শন।

তিন হাজার খাদ্য প্যাকেজের মধ্যে কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ দরিদ্র পরিবারের বাচ্চাদের পাশাপাশি গৃহহীন বাচ্চাদের এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

টিকার বাংলাদেশ কোঅর্ডিনেটর ইসমাইল গুন্ডোগু জানিয়েছেন, সংস্থাটি ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করে আসছে।

তিনি বলেন, “টিকা শুধু রোহিঙ্গা শিবিরেই নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও অনেক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

গুন্ডোগডু উল্লেখ করেছেন যে ,খাদ্য সহায়তা তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের লক্ষণ, তিনি আরও বলেছেন: “আমরা কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য টিকা এর সহায়তার অংশ হিসাবে [বাংলাদেশ] স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে চিকিৎসার সরঞ্জাম সরবরাহ করার পরিকল্পনাও করছি।”

ভাইরাসের বিস্তারের কারণে বাংলাদেশে ২৬ শে মার্চ থেকে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করা হয় যা যা ৫ মে অবধি চলবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষে থেকে তুর্কি অনুদান পেয়েছেন।

তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহায়তার জন্য তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

“আমি আশা করি তুরস্কের এই জাতীয় কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের দুই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে,” ইসলাম বলেন।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে উত্থাপিত হওয়ার পরে, COVID-19 ইউরোপ এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র সহ কমপক্ষে ১৮৫ টি দেশ ও অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।


©টি আর টি বাংলা ডেস্ক