সাইয়েদ কুতুবকে রহঃ কি আসলেই ফাসি দেওয়া হয়েছিলো?(ভিডিও)

১৯৬৫ সালে আমি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে শুরু করলাম। এ বছরই সায়্যিদ কুতুব রহ. কে গ্রেফতার করে জালিম সামরিক আদালতে পেশ করা হয়।

.
আমি তখন দৈনিক খবরের পাতায় চোখ বুলাতাম। মিশরীয় “আল-মাখুরি” পত্রিকায় ফলাও করে এ সংবাদ প্রচার করা হতো যে, ‘সায়্যিদ কুতুব সরকারের পতন ঘটাতে চান! কায়রো সেতুগুলো বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান! শিল্পীদের হত্যা করতে চান!
.
“আল-আহরাম” পত্রিকায় তখন কয়েক পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপা হতো আল-আজহার, সুফি ও সালাফি আলেমদের ফতোয়া। তারা সায়্যিদ কুতুবকে অপরাধী সাব্যস্ত করতেন। সায়্যিদ কুতুব ও তাঁর অনুসারীরা নাকি অপরাধী, পথভ্রষ্ট ও জমিনে অনিষ্টকারের দল! তাঁদেরকে হত্যা করা হোক!
.
সায়্যিদ কুতুবের ফাঁসির রায় দেয়া হল। তিনি হাসিমুখে তা বরণ করে নিলেন।
.
বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার এক ক্লাসমেটের ভাই, যিনি ফাসি কার্যকর করার সময়কার পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি আমাকে বর্ণনা করলেন যে, শহীদ ওমর মুখতার রহ. এর মতো অত্যন্ত বড়ত্বের ভাব নিয়ে সায়্যিদ কুতুব শান্তশিষ্ঠভাবে ফাঁসির কাষ্ঠের দিকে এগিয়ে গেলেন।
.
তিনি বলেন, এরপর সায়্যিদ কুতুব সামান্য সময় থামলেন। ফাঁসি কার্যকরকারী লোকজনও কিছুক্ষণ থামল। তিনি সুরা গাফির- এর আয়াতগুলো তিলাওয়াত করতে শুরু করলেন- ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ ﻣُﺆْﻣِﻦٌ ﻣِﻦْ ﺁﻝِ ﻓِﺮْﻋَﻮْﻥ َ ﻳَﻜْﺘُﻢُ ﺇِﻳﻤَﺎﻧَﻪُ ﺃَﺗَﻘْﺘُﻠُﻮﻥَ ﺭَﺟُﻠًﺎ ﺃَﻥْ ﻳَﻘُﻮﻝَ ﺭَﺑِّﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻗَﺪْ ﺟَﺎﺀَﻛُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺒَﻴِّﻨَﺎﺕِ ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻜُﻢْ ﻭَﺇِﻥْ ﻳَﻚُ ﻛَﺎﺫِﺑًﺎ ﻓَﻌَﻠَﻴْﻪِ ﻛَﺬِﺑُﻪُ ۖ ﻭَﺇِﻥْ ﻳَﻚُ ﺻَﺎﺩِﻗًﺎ ﻳُﺼِﺒْﻜُﻢْ ﺑَﻌْﺾُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳَﻌِﺪُﻛُﻢْ ۖ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳَﻬْﺪِﻱ ﻣَﻦْ ﻫُﻮَ ﻣُﺴْﺮِﻑٌ ﻛَﺬَّﺍﺏٌ .
.
এরপর তিনি দু’রাকআত নামাজ পড়ার অনুমতি চাইলেন। ঠিক তখন তার দিকে এগিয়ে আসলেন একজন পাগড়িধারী শাইখ। তিনি সায়্যিদ কুতুবকে আখেরি কালেমাহ পড়াতে চাইলেন! সায়্যিদ কুতুব তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘হে শাইখ! তারা তো আমাকে এই কালেমার সাক্ষ্য দান করার কারণেই ফাঁসি দিচ্ছে! তো এখানে কালেমা পড়ানোর কী দরকার?’
.
সায়্যিদ কুতুব নামাজ পড়তে শুরু করলেন। শেষ সিজদাহে লোকেরা অপেক্ষা করছে যে, তিনি সিজদাহ থেকে মাথা উত্তোলন করবেন আর তারা ফাঁসি কার্যকর করবে। কিন্তু নাহ, সায়্যিদ কুতুব সিজদাহ দীর্ঘায়ীত করতে লাগলেন। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেল। তিনি সিজদাহ থেকে মাথা উত্তোলন করছেননা!
.
শেষমেশ তারা তাঁকে উঠাতে গেল। উঠাতে গিয়ে দেখতে পেল যে, তাঁর রূহ অনেক আগেই আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছে! মৃত অবস্থায়ই তারা তাঁকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে দিল। যাতে তাগুত জামাল আব্দুন নাসেরের সামনে তারা তাঁর ফাঁসিদেয়া দেহ উপস্থাপন করতে পারে।
.
১৯৭৬ সালে আমি রিয়াদের আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিক্বহ সম্মেলনে তাঁর ভাই উস্তাদ মুহাম্মদ কুতুবকে এই ঘটনা বলি। তখন তিনিও বলেছিলেন যে, হ্যা! লোকেরা আমাকেও এই ঘটনা বর্ণনা করেছে!
:
লিখেছেন – ড. মুহসিন আব্দুল হামিদ
অধ্যাপক শরী’আহ বিভাগ (সাবেক)
বাগদাদ ইউনিভারসিটি।

সংগ্রহেঃ Ainul Haque কাসিমি