মুহাম্মাদ আল ফাতিহ এর দুঃসাহসিক ইতালি অভিযান

ূীূবোলুতো.মদস

সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মাদ বা মুহাম্মাদ আল ফাতিহ (১৪৩২-১৪৮১), ইংরেজিতে Mehmed the conqueror ৷
উসমানীয় সালতানাত তথা মুসলিম জাহানের অবিস্মরনীয় এক শাসক, যার তারিফ স্বয়ং রাসুল সাঃ করেছেন ৷ শুধু শাসক বললে ভুল হবে, তিনি ছিলেন একজন আপাদমস্তক বিজেতা । তার তলোয়ার যেমন রাজ্য বিজয় করেছে, তেমনি তার শাসনব্যবস্হা মানুষের মন জয় করেছে ৷

সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ সবচেয়ে বেশি খ্যাতিমান কন্সটান্টিনোপল (বর্তমান নাম ইস্তান্বুল) জয়ের কারণে ৷ কিন্তু তাঁর জয়ের ধারা এখানেই থেমে থাকেনি৷ তিনি জয় করেন পুরো আনাতোলিয়া, ককেশাস, ক্রিমিয়া এবং সমগ্র বলকান অঞ্চল ৷

সারাজীবন ধরে ইসলামের পতাকা বহন করেছেন সুলতান ৷ ত্রিশ বছরে বহু লড়াই করেছেন৷ ইতিহাসের স্রোতকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন উল্টো দিকে৷ সারা সাম্রাজ্যে নিশ্চিত করেছেন ইনসাফ ও ইনসানিয়াত ৷ ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ান পথে প্রান্তরে৷

মাঝেমধ্যে তিনি ফজর নামাজ পড়ে প্রাসাদে ফেরার সময় সূরা নাসর তিলাওয়াত করেন ৷
“যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে ৷ আর মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করবে ৷ তখন তুমি তোমার রবের প্রশংসা করো ও ক্ষমা প্রার্থনা করো৷ নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল” ৷

সুলতান মুহাম্মাদ এর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে ইতালি বিজয়ের চিন্তা ৷ সেই লক্ষ্যে ১৪৮০ সালের গ্রীষ্মে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মাদ তাঁর নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠ এডমিরাল জেদিক আহমেদ পাশাকে নিযুক্ত করেন রোম জয় করার উদ্দেশ্যে৷ সুলতান জেদিক আহমেদ পাশাকে দেড়শ জাহাজ দেন যার মধ্যে ছিল ৯০ টি ছোট গ্যালিয়ট, ৪৮ টি মাঝারি গ্যালিয়ট আর এক ডজন বড় গ্যালি ৷

২০ হাজার সৈন্য নিয়ে ইস্তান্বুল থেকে রওনা হয়ে যান গ্র্যান্ড অ্যাডমিরাল জেদিক আহমেদ পাশা ৷ আড়াই মাস পর ইতালি পৌছেন৷ তাদের লক্ষ্য ছিল দ্রুত একটি বন্দর জয় করে নিজেদের লজিস্টিক বেস বানানো ৷ নোঙর করার জন্য জেদিক পাশা বেছে নিলেন ‘অটরান্টো’কে৷
এরই মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লো স্বয়ং সুলতান মুহাম্মাদ রোম দখল করতে আসছেন৷

অটরান্টো শহরের বেশিরভাগ প্রাণ নিয়ে পালালো৷ ফ্লোরেন্স-মিলান খালি হয়ে গেল তিন দিনের মধ্যে৷ সুলতান আসছেন শুনে পোপ ভয়ে রোম থেকে ফ্রান্সের আভিগননে পালানোর পরিকল্পনা করেন ৷

জেদিক পাশার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য অটোমান বাহিনী অটরান্টো জয় করে ফেলল৷ কিন্তু শীতকাল আসাতে তাদের পিছিয়ে যেতে হলো৷ আটশ যোদ্ধা অটরান্টোতে রেখে জেদিক পাশা আলবেনিয়া ফিরে গেলেন ৷

পরের বছর সুলতান নিজেই একলাখ সৈন্যসহ ইতালি জয়ের জন্য আসবেন, সিদ্ধান্তটা এমনই ছিল৷ কিন্তু ভাগ্যের লিখনী হয়তো অন্যরকম ছিল ৷

১৪৮১ সালের মে মাসে ইতালি অভিযানের আগে অসুস্থ হয়ে গেলেন সুলতান। ধারনা করা হয় তাঁকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল৷ এই অসুস্থতাতেই তিনি ইন্তিকাল করেন।
সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে কাদিয়ে চির বিদায় নেন মহান সুলতান ৷ তাঁর মৃত্যুতে ইস্তান্বুলের মসজিদে মসজিদে কান্নার রোল পড়ে গেল৷ হলো না আর ইতালি বিজয় ৷

ইউরোপ হাফ ছেড়ে বাচলো ৷ ভ্যাটিকেনের পোপ ক্যাথলিক চার্চে ঘন্টা বাজানোর নির্দেশ দিলেন ৷ আজ তাদের উৎসবের দিন ৷ তাদের মহাশত্রু মেহমেদ মারা গেছেন ৷
ভেনিসের দোজে পোপকে চিঠি লিখলেন-
The Great Eagle is Dead!!

তথ্যসূত্র: সানজাক ই উসমান: অটোমানদের দুনিয়ায়
লেখকঃ আনোয়ারুল আযিম
আমাদের কাছে লেখা পাঠানোর ঠিকানাঃ write@69.195.123.66