আঁধারের সন্তান

69.195.123.66

উনি বলেছিলেন,
আকাশে মেঘ ঘনাবে যখন
চারিদিকে আঁধার আসিবে তখন
প্রকাশিত হবে, অপ্রকাশিত সব আঁধারের সন্তান।

উনি বলেছিলেন,
আকাশে মেঘ ঘনাবে যখন
বাতাসের মহা তান্ডব বহিবে তখন।
তারপর, ঠিক তারপর,
এক প্রশান্ত বারিধারায়,
ডুবে যাবে যত আঁধার আর আঁধারের সন্তান,
খুঁজে পাবে এক আলোকিত সকাল সব-নতপ্রাণ।

আকাশে আজ মেঘের ছড়াছড়ি।
জড়িয়ে দু’হাত, আমি দন্ডয়মান, এক পাপিষ্ঠ গোলাম।
নতজানু হয়ে খুঁজেফিরি মালিক, করুনা তোমার।

অবশেষে, বেলাশেষে প্রহর পেরিয়ে যায়,
“তারা” আসিল,
কিছুটা হাসিল,
ঝাড়িল,
কহিল,
“তব বৃষ্টির দেখাযে না পাই।
এসব ভুলে আয়, আমাদের মাঝে আয়। ”

—————–

বিতাড়িত হয়েছে যে নতজানু না হয়ে,
বিতাড়িত করিবে সে নতজানু যে হবে।
প্রতিজ্ঞায়, প্রতিক্ষায় ধীরে ধীরে পা বাড়ায়
ভালরে সুধায় ভাল-ভাল সবচেয়ে তুমি ভাল,
অহংকারী করিয়া সে ভালরে করিবে কালো।
খারাপরে কই, খারাপ আসলে খারাপ ততটা নই,
একটাইতো জীবন, যত পার তুমি করে নাও নয়-ছয়।

আমার জড়িত বাধন খুলে যায়,
পৃথিবীর মোহ জড়িয়ে গায়ে-মুখে-হাতে-পায়,
ছুটি দিগবেদিগ হয়ে অ-দন্ডায়মান, অস্থিরতায়।
ফুলেফেঁপে বলিষ্ঠ হতে থাকি পাপিষ্ঠতায়৷

শতশত রাত পেরিয়ে, কোন এক মেঘের শেষে,
বৃষ্টি নামিল ঠিকই,
ধুয়ে মুছে সব সাফ করিল, মনে জাগালো ভীতি।
আমি বঞ্জিত, করে সঞ্চিত এই দুনিয়াদারী,
রহমত খুঁজি, রহমত দাও রহমতের মালিক যিনি।

হঠাৎ এক কম্পনে আমার দুচোখ গেল খুলে,
এসবকি তবে স্বপ্নে ছিল নাকি সব বাস্তবে !
মাবুদ, তব তরে মোর সহস্র কৃতজ্ঞতা
সত্যের পথে দেখাতে পারি যেন সদা অবিচলতা।

ধুলোয় দিয়েছি মিশিয়ে আমার যতছিল দাম্ভিকতা
জড়িয়ে ধরেছি বিরাজিত এই পবিত্র অস্থিরতা।
এনেছি আজ তোমাদের তরে এক হুশিয়ারি বার্তা।

—————

শুনো, ঝড় আসছে ঝড়।
করতে ধৌত দুষিত যত হয়েছে জীবন ভর,
জাগাতে ঈমান, হাত পেতে দে, শক্ত করে ধর,
মহা প্রলয়ের মহা প্রতিক্ষার ঝড় আসছে ঝড়।
এই ঝড়ের কবলে ধুকবে সকলে রহমতে-গজবে
হুশিয়ার হও, হও হুশিয়ার, আজকে না হলে কবে?

এতকাল ধরে ছিলো যে-যারা, অন্ধ-বধির-কানা,
তারা দেখবেনা,তারা শুনবেনা, তারা বুঝবেনা বুঝবেনা।
তারা ফাটিবে অট্টহাসিতে, তারা লাফিবে আত্মহুংকারে
তারা জানবেনা কি করবেটা কি,
সাজবেটা কী – জ্ঞানপিপাসি?
তারা ভুলবে তাদের উৎসটা কি?
তারা সততার সাথে লুটবে তারা হন্ন হয়ে ছুটবে
তারা সফলতার এই মন্ত্র যপিয়া অসফলতারে কিনবে।

তারা জানবে না তাদের ধর্ম, তারা চিনবেনা মহৎ কর্ম
তারা সত্য দেখিবে, সত্য দেখেও মিথ্যে করিবে অন্ন।
তারা মোহতে পড়িয়া মোহতে জড়িয়া মোহতে বিভর বন্য।
তারা ভুলিছে শুধু এসেছে তারা কিছুটা কালের জন্য।
পেয়ে বিধাতার ক্ষণ অবকাশ ভেবেছে তারা ধন্য,
তারা নাকি অদম্য!

তারা পোশাকে-আশাকে সেজেছে বেশ
মিছে দুনিয়ায় ডুবেছে তারা তাদের কাটেনা রেশ
এই নেশার জগতে লোভী যে-জনে সে-জনে হবে শেষ,
সে জনেই হবে শেষ।

তারা কিতাব পেয়েছে,কিতাব পড়েনি,ঝাড়ে তবু পান্ডিত্য।
বিধাতার শত নেয়ামতেও তাদের কাটেনাযে অন্ধত্ব।
তাদের অন্তর গেছে মরে,
তারা দেখবে কেমন করে?
তারা জানেনা তাদের পিছনে কে,
চারপাশ হতে ঘিরেছে কে,
ভুলিয়ে সুপথ, দেখাচ্ছে সে পথ
প্রকাশ্য সে শত্রুটা কে?
সব গুড়িয়ে দিচ্ছে যে সে, বিতাড়িত হয়েছে যে,
বিতাড়িত হয়েছে যে, সব গুড়িয়ে দিচ্ছে যে সে।

সব ভুলেছো তুমিও কি ভাই,
ভোলাচ্ছে সে কি তোমাকেও হায়,
সব বিলিয়ে দিচ্ছ কি তাই, অজান্তে অবহেলায়?

———

নিজাম উদ্দিন
রচনাকাল : ১৬ই মার্চ, ২০২০।

বি.দ্র. ২ বছর ২ মাস ১১ দিনের দীর্ঘ বিরতির পর আবার কবিতা লিখলাম। লিখলাম না বলে বলা উচিৎ না লিখে পারলাম না। ইতিহাসটা একটু বলি। ১৬ তারিখে আমি ছিলাম আমাদের গ্রামের বাড়িতে। দুইদিনের জন্য বাড়ি যাওয়া। ওযু করেছি এশার নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে। যখনই জায়নামাজে দাড়ালাম, ঠিক তখনই কবিতাটা মাথায় আসলো। পাশেই ছোট বোন পড়ছিল, তার থেকে একটা কাগজ নিয়ে যতটুকু টুকার টুকে রাখলাম। তারপর থেকে মোটামুটি আজ পর্যন্ত, কবিতাটা শেষ না করা পর্যন্ত, এটা মাথার ভিতরে ভালই যন্ত্রণা দিয়েছে।

কবিতাটি নিয়ে বলতে গেলে, এটা আমার কাছে এক ভিন্নধর্মী কবিতা। এরকম কবিতা না আগে পড়েছি না আগে লিখেছি। তাই বুঝছিনা কে কিভাবে নিবে। তবে এটা ঠিক যে চারপাশের যে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং আমাদের ঈমানের যে নড়বড়ে অবস্থা এসব আমাকে উদ্ভুদ্ধ করেছে কবিতাটি লিখতে। একটা ব্যপার আমাকে সবসময় ভাবায়, শয়তান আল্লাহ কে, আল্লাহর মহত্ত্বকে যতটা কাছ থেকে দেখেছে, ততটা কাছ থেকেতো আমরা মানুষরা দেখিনি। সে শয়তান যখন আল্লাহর নেয়ামত থেকে বিতাড়িত হয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ছে আমাদের বিপদগামী করার, সেকি নিরিবিলি চুপচাপ বসে আসে?কিন্তু তারপরও আমাদের চারপাশে সবায় শয়তান সম্পর্কে এত বেখেয়াল কেন? কেন তারা বুঝেনা তাদেরকে শয়তান ভালকাজে বাধা আর খারাপ কাজে উদ্ভুদ্ধ করছে, নিয়মিত। এইযে এখন যে আমি পোস্টটি লিখছি, নিশ্চিত এখনো সে তার অসৎ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহতো আমাদের সাবধান করেই দিয়েছেন যে শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু তারপরেও কি আমরা তাকে দেখার, বুঝার, চিনার চেষ্টা করি? তার পাতা ফাঁদ থেকে নিজেকে হেফাজত করার চেষ্টা কি করি? আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।