এবার এরদোয়ানের কাছে ধরা ইউরোপ!

সিরিয়া শঙ্কটের শুরু থেকেই শরণার্থীদের সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্কের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিল। তুরস্ককে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো সহায়তা করেনি ইউ।
ফলে সব শেষ কিছু দিন আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি বিষয়টি নিয়ে কোনো সুরাহায় না আসে তাহলে তুরস্ক ইউরোপ সীমান্ত খুলে দেবে। ঘোষণা অনুযায়ী গত শুক্রবার সীমান্ত খুলে দিয়েছে দেশটি। এতে প্রথম দিনেই প্রায় ১৮ হাজার শরণার্থী ইউরোপে প্রবেশ করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতি না রাখায় এরদোয়ানের এই চালের কাছে এখন ধরাশায়ী অবস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়নের। ইইউ নেতারা এখন এরদোয়ানকে ফোনের ওপর ফোন করছেন। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)-এর প্রাদেশিক অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল মিটিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এরদোয়ান বলেন, কয়েক মাস আগে শরণার্থী সমস্যা নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে সতর্ক করে বলেছিলাম, আমাদের বোঝা কিছুটা কমান, নাহলে আমরা সীমান্ত খুলে দেব। কিন্তু তারা (ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন) মনে করেছিল আমি তাদের সঙ্গে কৌতুক করছি।
তিনি বলেন, এখন ওই সীমান্ত উন্মুক্ত। এখন সীমান্ত বন্ধের জন্য ফোনের পর ফোন পাচ্ছি।
এরদোয়ান বলেন, পশ্চিমারা শরণার্থী সংকটে যে সহযোগিতা করার কথা ছিল তা করেনি।
এরদোয়ান বলেন, আমরা সিরিয়া থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা লাখ লাখ শরণার্থীর সমস্যা ও মানবিক সংকট সমাধানে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। এছাড়াও আমাদের দেশের নিরাপত্তার বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ।দুটো বিষয়ই আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে পশ্চিমারা এ বিষয়টা নিয়ে অভিনব কিছু কথা বলে। তারা অভিবাসীদের নিয়ে আতংকিত, কিন্তু তাদের কাছে বাস্তবভিত্তিক কোনো সমাধান নেই।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, অভিবাসন স্রোত নিয়ে জার্মানি ও বুলগেরিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ইউরোপিয়ান দেশগুলো শরণার্থীদের বোঝা নিতে আগ্রহী না, এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য এসব সমস্যা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ব্যবস্থা নেবেন।
এরদোয়ান বলেন, শরণার্থীদের জন্য আমরা কয়েক বছর ধরে সেইফ জোন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছি। এ ইস্যুতে কোনো ইউরোপিয়ান দেশ আমাদের দৃঢ়তার সঙ্গে সমর্থন ও সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। এখন হাজার হাজার লাখ লাখ অভিবাসী ইউরোপ যাবে। শীঘ্রই এ সংখ্যা মিলিয়ন পার হবে।
এরদোয়ান আরও বলেন, আমরা তাদের (সিরিয়ান শরণার্থীদের) নিজেদের ভূমিতে সবাইকে মর্যাদাপূর্ণ জীবন ফিরিয়ে দিতে চাই। নতুবা সবাই মিলে তাদের ভাগাভাগি করে নিতে চাই।