তুর্কিস্তান থেকে আফগানিস্তানে উইঘুর সিংহরা

  • লিখেছেনঃ মুহাম্মাদ ইয়াসির আরাফাত মল্লিক

গতকাল ইন্টারনেটের বারান্দায় পদচারণা করছিলাম। হঠাৎ ই আমার তুর্কিস্তান আল ইসলামিয়‍্যা নামে একটি ম‍্যাগাজিন আমার চোখে পড়ল। বলে রাখা ভালো যে, প্রেয়সীর প্রেমাণলের থেকে ম‍্যাগাজিনের লোভনীয় পৃষ্ঠা আমায় অধিক মোহাবিষ্ট করে। আমি ম‍্যাগাজিনের প্রতি অত্যন্ত দূর্বল। তাই আমি ম‍্যাগাজিনটা খুলে তার প্রতিটি পাতার স্বাদ গ্রহণ করছিলাম। হঠাৎ ই আমার চোখ আঁটকে গেল একটি প্রবন্ধের শিরোনামের শিরে। এটা ছিল উইঘুর সম্প্রদায়ের উপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা, একটি রক্তাক্ত অধ‍্যায়! আমি পড়তে থাকলাম….

তুর্কিস্থান ! মধ‍্য এশিয়ার একটি পবিত্র স্থান। যা আফগানিস্তানে ও তাযাখিস্তানের পশ্চিমে, পাকিস্তানের উত্তরে এবং কাযাখিস্তানের দক্ষিণে অবস্থিত। এখানে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করেন যাঁরা অধিকাংশই ইসলাম ধর্ম পালন করে থাকেন…

তুর্কিস্থান ! মধ‍্য এশিয়ার একটি পবিত্র স্থান। যা আফগানিস্তানে ও তাযাখিস্তানের পশ্চিমে, পাকিস্তানের উত্তরে এবং কাযাখিস্তানের দক্ষিণে অবস্থিত। এখানে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করেন যাঁরা অধিকাংশই ইসলাম ধর্ম পালন করে থাকেন এবং ইমামে আজম আবু হানীফা রহঃ এঁর মাজহাব অনুসরণ করে থাকেন। জাতিগত দিক থেকে তাঁরা তুর্কি জাতির একটি শাখা। তাঁরা হলেন উইঘুর সম্প্রদায়! এই জাতি অত‍্যন্ত দ্বীনদার ও ঈমানদার একটি জাতী যাঁদের মধ‍্যে ছিল উলামায়ে কেরামের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

কিন্তু হঠাৎ তাদের উপর নেমে এল লাল ভালুকের কালো থাবা। ১৯৪৯ সালে উক্ত অঞ্চলটি দখলে নেয় চীন। এবং তার কয়েক দশক পর অর্থাৎ আজ থেকে ২৩/২৫ বছর পূর্বে চীনের কমিউনিস্ট সরকার তাদের উপর নিপিড়ন শুরু করে। এরপর শুরু হয় উইঘুর জাতির রক্তাক্ত ইতিহাস। প্রথমে আলেম ওলামাদের উপর নেমে আসে জুলুমের স্টীম রোলার। তাঁদের প্রকাশ‍্যে ও বন্দিত্বের শৃংখল পরিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে চীনের পাপিষ্ঠ নরপশুরা যারা কি না নিজেদের মানবতার অবতার বলে প্রচার করে থাকে।

মুসলিম পুরুষদের দাড়ি চেঁছে দেওয়া হয় ও নারীদের হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। উইঘুর মুসলিমদের গৃহ লুটপাট করে কমিউনিস্টরা এবং তাদের সম্পদ ও খাদ্য নিয়ে চলে যায় যার ফলে ক্ষুধার্ত হয়ে বহু নিষ্পাপ মানুষ শাহাদাত বরণ করেন।

 

এরপর উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। আলেম ওলামাদের গণ হারে শহীদ করা হয়, জনসমক্ষে ইসলাম প্রচার নিষিদ্ধ করা হয় ও মসজিদ মাদ্রাসা গুলোকে কমিউনিজমের আড্ডাখানায় পরিণত করা হয়।মুসলিম পুরুষদের দাড়ি চেঁছে দেওয়া হয় ও নারীদের হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। উইঘুর মুসলিমদের গৃহ লুটপাট করে কমিউনিস্টরা এবং তাদের সম্পদ ও খাদ্য নিয়ে চলে যায় যার ফলে ক্ষুধার্ত হয়ে বহু নিষ্পাপ মানুষ শাহাদাত বরণ করেন।

কিন্তু মাও শির মৃত্যুর পর এই জুলুম কিছুটা প্রশমিত হয়। পরবর্তী সরকার এসে কিছু আলেমের মুক্তি দেয় এবং সেই সকল আলেমরা জোরালো ভাবে দ্বীনের দাওয়াত দিতে শুরু করেন।

১৯৮৮ খৃষ্টাব্দে হাসান মাখদূম নামক জনৈক আলিম প্রতিষ্ঠা করলেন, আল হিজব আল ইসলামী তুর্কিস্তানী যা Türkistan İslam Cemaati নামে পরিচিত। অতঃপর তাঁরা যুদ্ধ শুরু করলেন ও দূর্বার গতিতে একটি বড় অঞ্চল দখল করে ফলেন‌ যা প্রায় কুড়ি দিন তাঁদের দখলে ছিল।

এঁরা তখন নিজেদের রক্ষার্থে দিফা’ আনিল আরদ্ব এর বিষয়ে শিক্ষা দিতে শুরু করেন। উইঘুর মজলুম রা তখন নিজেদের রক্ষার্থে হাতে অস্ত্র তুলে ধরে। ১৯৮৮ খৃষ্টাব্দে হাসান মাখদূম নামক জনৈক আলিম প্রতিষ্ঠা করলেন, আল হিজব আল ইসলামী তুর্কিস্তানী যা Türkistan İslam Cemaati নামে পরিচিত। অতঃপর তাঁরা যুদ্ধ শুরু করলেন ও দূর্বার গতিতে একটি বড় অঞ্চল দখল করে ফলেন‌ যা প্রায় কুড়ি দিন তাঁদের দখলে ছিল। এরপর চীন সরকার আবার উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করল এবং বহু নারী, শিশু ও নিরাপরাধ মানুষ হত‍্যা করল। তুর্কিস্তান দলের বহু সেনাবাহিনী কে হত‍্যা করা হয়। সেই সাথে আবার জনসমক্ষে ইসলাম প্রচার নিষিদ্ধ হল ও উইঘুর মুসলিমদের উপর পূর্বের মতো আবার অবর্ণনীয় অত‍্যাচার শুরু হয় যা আজও চলেছে।

এসময় উইঘুরদের কিছু লোক ছাড়া তাদের উপর ভিসা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু তুর্কিস্থান ইসলামী দলের যোদ্ধারা দমে যাননি। তাঁদের একটি বিরাট সংখ্যক দল চীন সরকারের চোখে ধূলো দিয়ে চীন থেকে বেরিয়ে পড়েন। অতঃপর তাঁরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে যান। একটি দল আফগানিস্তানে আসেন ও ইমারতে ইসলামী আফগানিস্তানের আমীর উল মু’মীনীনের হাতে বাইয়াতবদ্ধ হন। অপর দলটি মজলুম সিরীয়বাসীর পাশে গিয়ে দাঁড়ান। তাঁরা সেখানে নতুন দল তৈরি করেন যা আল জয়শ আল ইসলামী আল তুর্কিস্তানী লি নুসরাতী আহলিশ শাম নামে পরিচিতি লাভ করে। এটি ইমারতে ইসলামী আফগানিস্তানের আমীর উল মু’মীনীনের হাতে বাইয়াত বদ্ধ হয় তাই এটিকে সীরিয়ার ইমারতের শাখা হিসেবে গণ‍্য করা হয়। এই দলটি বর্তমানে আল্লাহর রাস্তায় অত‍্যাচারী শাসক আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চলেছে। গুগলের তথ্য অনুযায়ী তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা এই দলকে সমর্থন করে থাকে।

এভাবেই একটি মজলুম জাতী থেকে তাদের সিংহরা তুর্কিস্তান থেকে বেরিয়ে আফগানিস্তান ও শামে হুংকার ছেড়েছেন।