তবুও ইরান দায়ী | TRT Bangla
Home মতামত তবুও ইরান দায়ী

তবুও ইরান দায়ী

0
তবুও ইরান দায়ী

লিখেছেনঃ মুহাম্মাদ ইয়াসির আরাফাত মল্লিক

 

আজ ইরাকের বাগদাদে সাম্রাজ্য বাদীদের হামলায় সিপাহে পাসদারানে ইনক্বিলাবে ইসলামী (Islamic Revolutionary Guards Crops) এর আল কুদস শাখার আমীর ক্বাসিম সুলাইমানী নিহত হবার পর , কিছু মহলে বেশ খুশির রেশ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিন সালমানের ভক্তদের কাছে হয়ত আজ দিনটি খুশিতে ভরে উঠেছে। হয়ত আজ পবিত্র শুক্রবার এই মানুষটির অন্তর্ধানে তারা নিজেদের বিজয়ের দিবাস্বপ্ন দেখছে। হয়ত তাদের কাছে এখনো আয়াতুল্লাহ আলী উজমা খোমেনির হুংকারের খবর এখনো পৌঁছায় নি।

যাইহোক, আমি বলতে দ্বিধা করি না যে, আমি এখন ইরানের সমর্থক। কারণ আমি ইজরাইলের বিরোধী! কারণ আমার উম্মাহর চিন্তায় আমি বিভোর। আর সব থেকে বড় কারণ আমি মুনাফিক নই। আমি একজন উসমানী হিসাবে ইরান ও IRGC কে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে , দখলদারদের বিরুদ্ধে সমর্থন করাকে নিজের কর্তব্য মনে করি। হাঁ আমার মতোই হামাস, ইসলামী ইমারত, তুরস্ক, কাতার সহ আমাদের রেজিস্ট‍্যান্স ও ইরানের সাথে সু সম্পর্ক গড়েছে। কারণ তাদের কাছে আমার মতোই উম্মাহর চিন্তাটা বেশি গুরুত্ব পায়।

আজকে এই দুঃখের দিনে সমব‍্যাথী হয়ে আমি কলম ধরেছি , সত‍্যকে তুলে ধরে মিথ‍্যাকে খন্ডন করার জন‍্য, পশ্চিমাদের একনিষ্ঠ গোলামদের মিথ‍্যাবাদীতা ও কপটতাপূর্ণ যুক্তি সমূহ কে খন্ডন করার জন‍্য।

তারা বলে, ইরান মধ‍্যপ্রাচ‍্যের দুশমন , ইরান মধ‍্যপ্রাচ‍্যে ক্ষতি করেছে সব থেকে বেশি! তারা বলে ইরান ইসরাইলের ও আমেরিকার চক্রান্তকে বাস্তবায়িত করছে! এই কপটতাপূর্ণ মিথ‍্যাচার আর কতদিন? তাদের কিসে এতটা বোকা বানালো? নাকি তারা পাশ্চাত্যের একনিষ্ঠ গোলামে পরিণত হয়েছে? আসুন আমরা জেনে নিই, কারা মধ‍্যপ্রাচ‍্যের প্রকৃত দুশমন।

তারা বলে ইরাকে ইরান ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ও ইরাক কে ইরান ধ্বংস করেছে। কতবড় মিথ‍্যুক হলে এই কথা বলতে পারে তারা? তারা হয়ত ইরাকের ইতিহাস পড়ে নি। তারা হয়ত পড়ে নি যে সাদ্দাম হোসেনের ইরাক অতি সমৃদ্ধ ছিল। তারা হয়ত জানে না যে শিয়া প্রধান এই দেশের সুন্নী শাসক সাদ্দামের একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী ছিল। অতঃপর সৌদি আরব ও আরবের জায়নবাদীরা আমেরিকাকে ডেকে এনে ‌ Operation Desert Storm এর নামে ইরাকের সেনাবাহিনী ধ্বংস করে ফেলে, লক্ষ লক্ষ মানুষ হত‍্যা করে ও সাদ্দামকে হত‍্যা করে। এ খবর হয়ত তাদের কাছে আসে নি! দীর্ঘ দিন যুদ্ধ চলার পর সেখানে যখন শিয়া সরকার গঠিত হল তখন তারা ইরানকে আহ্বান করল। ইরান সেখানে আমেরিকা ও আরব সন্ত্রাসি রাজবংশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করল। তখন আরবরা ইসরাইলের সাথে মিলে তাদের ওহাবী মতবাদের সাহায্যে দায়েশ সন্ত্রাসিদের দিয়ে ইরাকে সন্ত্রাসীদের রাজত্ব তৈরি করল। মধ‍্যপ্রাচ‍্যে আমেরিকার এই বড় অস্ত্র কে ইরান যেই ভেঙে ফেলল তখন আরবরা বড়ই আহত হল। তারা ইরানের বিরুদ্ধে ভূয়া প্রোপাগান্ডা চালাতে শুরু করল। হ‍্যাঁ এটা প্রথম নয়! আরব জায়নবাদীরা ইরানে পশ্চিমাদের দালালদের পতনের পর ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবার পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে লেগে আছে। এমনকি সাদ্দাম কে দিয়ে একসময় তারা ইরানে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছিল। আমেরিকা প্রথম থেকেই ইরানের উপর অবরোধ দিয়ে আসছে!

এরপর আসুন, সিরিয়াতে! এখানে যুদ্ধ কিন্তু ইরান শুরু করে নি। সিরিয়ায় শিয়া সরকার আসার পর থেকে সেখানে সুন্নিদের উপর কিছু অত‍্যাচার হয়। এরপর আরব ও পশ্চিমাদের উস্কানিতে সেখানে যখন যুদ্ধ শুরু হয়। ইসরাইলের প্ল‍্যান ছিল সিরিয়াকে দখল করা ও ইসরাইলের ঘোর বিরোধি আসাদ সরকারের পতন ঘটানো। যুদ্ধ যখন শুরু হল তখন আরব ও জায়নবাদীরা সেখানে দায়েশ কে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর ইরান সেখানে আসে ইসরাইলের চক্রান্ত কে বানচাল করে দেয়। এখানে নিরিহ সিরিয়ান হত‍্যার পেছনে আসাদ সরকার ও রাশিয়া যতটা দায়ী, আরব যায়নবাদী ও আমেরিকা ও ততটা দায়ী। কিন্তু আমরা তো শুধু ইরানকে সেখানে দেখতে পাই। কারণ তারা শিয়া!? হাঁ ইরান এখানেও ভূয়া প্রোপাগান্ডার স্বীকার। ইরানের বিরুদ্ধে বহু প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।

বিন সালমানের ভক্ত দের ইরাক ও সিরিয়া নিয়ে কুম্ভিরাশ্রু ফেলতে দেখা গেলেও, ইয়েমেন ও লিবিয়ার বিষয়ে তারা একেবারেই নিশ্চুপ। অথচ ইয়েমেনে হুথিদের নামে দেশটাকে জাহান্নামে পরিণত করেছে আরব জায়নবাদীরা। লিবিয়ায় আরবরা কি করেছে? তারা একজন বৈধ শাসকের বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসিকে লেলিয়ে দিয়ে দেশটির সম্পদ লুটে নিয়ে গেছে তারা!এই হল আরবদের আরব রক্ষার নমুনা। এখন যখন তুরস্ক সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে, তখন আরবরা তুরস্কের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। ঠিক যেমনটা তারা ইরানের বিরুদ্ধে করেছিল।

মিশরে আরব জায়নবাদীদের ভূমিকা নিয়ে কিছু বলার দরকার নেই বলে মনে করি। সেখানে ইখওয়ান যখন উন্নয়ন শুরু করেছিল তখন তাঁকে ফেলে দিয়ে এমন একজন অকর্মার ঢেঁকিকে শাসনে বসায়, যে মিশরকে অর্থনৈতিক প্রভৃতি দিক দিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বিন সালমানের ভক্তদের ইসরাইল প্রীতি দেখা যাচ্ছে। তাদের যুক্তি হল, ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে লড়ছে। এটা আজকের নয় বহু আগে থেকেই তারা করে আসছে। উসমানী সাম্রাজ্যের যুগ থেকেই তারা পশ্চিমাদের একনিষ্ঠ গোলামী করে আসছে। তাদের শত্রু হল মুসলিম ঐক্য। তারা একে প্রচন্ড ভয় পায়। তারা তখন উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে , এখন তারা তুরস্ক ও ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ফিলিস্তিনকে বিক্রি করে দেবার পেছনে আরবের এসব জায়নবাদীদের অনবদ্য ভূমিকা যে রয়েছে।

কিন্তু ইরান সেখানে রেজিস্ট‍্যান্সদের সহায়তা করছে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। আজ কেন হামাস ইরান পন্থী? কারণ ইরান তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তবুও ইরান দোষী। তবুও তারা আমাদের শত্রু।

 

আপনাদের প্রিয় ওয়েবসাইট TRT Bangla এন্ড্রয়েড এপ্স লঞ্চ করেছে। প্রত্যেকে নিজের মোবাইলে ইন্সটল করতে ছবিতে ক্লিক করুন।
TRT Bangla

FREE
VIEW