ভারতে হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় ‘দাদীরা’

ভারতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বিক্ষোভের নেতৃত্বে রাজধানী দিল্লির শাহিনবাগের বৃদ্ধা নারীরা। টানা ১৫ দিন ধরে বিক্ষোভ করে ইতোমধ্যেই সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন তারা, ঘরের আরাম ছেড়ে দিয়ে পথে নেমেছেন তারা। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এখন হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা, তার মধ্যেই উঠে এসেছেন শাহিনবাগের বৃদ্ধা এই ‘দাদীরা’।

আসমা খাতুন, বিলকিস, শর্বরী দেবীকে বলা হয়েছে, তাদের পুরো নাম জানাতে, একটি বাক্য তিনজনেরই উত্তর: ‘আমরা বলতে পারব না। আমাদের কোনো নথি নেই। এটা আমাদের বিরুদ্ধে যেতে পারে’। বয়স্ক এই তিনজন নারীই নিজেদের ঠাঁই করে নিয়েছেন বিক্ষোভের একবারে প্রথম সারিতে, আর সেখান থেকেই তাদের নতুন নামকরণ হয়েছে শাহিনবাগের ‘দাদী’।
তারা কেন পথে নেমেছেন, সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিন বৃদ্ধা:

সবচেয়ে বয়স্ক, নবতিপর আসমা খাতুন বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জিজ্ঞাসা করুন- কেন আমরা বিক্ষোভ করছি’, তিনি আরো বলেন,‘কেন আমাদের এরকম একটা দিন দেখতে হল? আমায় বিক্ষোভে নামতে হল? আমি নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে’।

এই আইন প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন কেন? সে প্রশ্নের উত্তরে আসমা খাতুন বলেন,‘তিনি আমাদের থেকে নাগরিকত্ব প্রমাণে নথি চান? দেশে অনেক মানুষ রয়েছেন, যাদের কোনও নথি নেই। বন্যা ও বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেকের নথি হারিয়ে গিয়েছে। তারা তাদের নথি কোথা থেকে জোগাড় করবেন? আমি মোদিকে তার পরিবারের ৭ প্রজন্মের নাম বলার চ্যালেঞ্জ করছি। আমি ৯ প্রজন্মের নাম বলতে পারব’।
নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে পাল্টা বিক্ষোভ নিয়ে আসমা খাতুন বলেন,‘তারাই করছে, যারা এর সমর্থনে আইনটি জানে না’।

বিলকিস বলেন,‘যেখানে আমরা বিক্ষোভ করছি, সেখানে লক্ষ করুন। শুধুমাত্র মুসলিমরাই বিক্ষোভ করছেন না। এসে দেখুন, কত মানুষ খাবার বিলি করছেন। সব ধর্মেরই মানুষ রয়েছেন। কেউ আমাদের কলা দিচ্ছেন, কেউ আবার জুস ও বিস্কুট দিচ্ছেন’।

সবচেয়ে কম বয়স্ক দাদী ৭৫ বছরের শর্বরী দেবী বলেন,‘আমরা সবাই এখানে জন্মগ্রহণ করেছি, এবং আমরা এখানেই মরতে চাই। সব ধর্মের তরফেই। এই আইনটি বিভাজনমূলক। যদি কখনও এই ধরণের কোনও অভিযান হয়, তাহলে আমি নথি জমা দিতে যাব না। যারা নথি দেখাতে পারবেন না, তাদের প্রতি এটা অন্যায়। সেইজন্য আমরা সহানুভুতি থেকে আমরা পাশে রয়েছি’।

এলাকার মানুষের বক্তব্য, লড়াকু মানসিকতা দিয়ে বয়সকে হার মানিয়েছেন তারা। তাদের কথায়,‘খোলা জায়গায় আমাদের খুব ঠাণ্ডা লাগছে না। আমাদের সবার সমর্থন আছে। সর্বোপরি, আমি আগামী প্রজন্মকে বলতে পারব, তাদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করেছি’।

এই প্রথমবার দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার ব্যাপারে ধর্মকে রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই আইনের ফলে, তিনটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশের সংখ্যালঘুরা ২০১৫ সালের আগে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে, ভারতে এলে তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ সহজ হবে। সমালোচকদের দাবি, এটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিভাজনমূলক এবং সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতাকে লঙ্ঘন করে।