এবার পাকিস্তানের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ সরকার। দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কেও উন্নয়ন প্রত্যাশা রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদে বড় আকারের এবং স্থায়ী একটি কনস্যুলেট জেনারেল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ মাসেই প্রকল্পটির সংশোধনী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

সাত হাজার ৭৬৮ কোটি বর্গমিটারের এই জমিটি পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশকে দিয়েছে।  পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ও ইসলামাবাদে প্রকল্পটি নির্মাণের পক্ষে তাদের সুপারিশ দিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে একনেক বৈঠকে এ প্রকল্প অনুমোদন হতে পারে। এতে সভাপতিত্ব করার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

পরিকল্পনা কমিশনের এক সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে সমকালকে বলেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। এ মাসে এ রকম একটি প্রকল্প অনুমোদন হলে বিতর্ক উঠতে পারে। কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক অতটা ভালো না। অবশ্য তিনি এ কথাও বলেন যে, এটা রুটিন ওয়ার্ক। ডিসেম্বর মাস মাথায় রেখে এ প্রকল্প নেওয়া হয়নি। ফলে এটা নেতিবাচক হিসেবে দেখার যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যায় চারটি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। (ক) পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা ও তা শক্তিশালী করা; (খ) দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন করা; (গ) বর্তমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মিশনে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো সুবিধা সৃষ্টি; (ঘ) পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারকে দূতাবাসের জন্য প্রদত্ত জমির সদ্ব্যবহার করা।

পাকিস্তানে কনসুলেট ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি সংশোধনের জন্য সুপারিশে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নির্মাণাধীন কনসুলেট ভবনটি হলে নিজস্ব ভবনে মিশনের দাপ্তরিক কাজ পরিচালানা করা সম্ভব হবে। একনেকে প্রকল্পটির সংশোধনী সদয় ও সানুগ্রহ অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের ঠিকানা- ব্লক-৯ ও ১৫, সেক্টর জি-৫, ডিপ্লোম্যাটিক এনক্লেভ, ইসলামাবাদ, পাকিস্তান। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। তৃতীয় দফায় সংশোধিত এ প্রকল্পটির কাজ আগামী ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) চলমান প্রকল্প হিসেবে প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত। বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সংশোধনের কারণ ব্যখ্যায় বলা হয়, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বদল, অডিটোরিয়াম তৈরি ও নতুন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্তি ইত্যাদি।

জানা গেছে, আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে বিদেশি ৩২টি মিশনে নিজস্ব জমির ওপর ভবন নির্মাণ অথবা জমিসহ ভবন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত আছে বাংলাদেশ সরকারের। তিনটি পর্যায়ে এসব মিশন প্রস্তুত করার কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ পর্যন্ত ৩২টি মিশনের মধ্যে ১৫টি মিশনের জন্য জমি কিংবা জমিসহ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চ্যান্সারি অফিস নির্মাণ হচ্ছে রিয়াদ, বার্লিন, আঙ্কারাসহ ৬টি শহরে। অন্যদিকে ৭৬টি দূতাবাসের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে।

সূত্রঃ সমকাল