তাজমহলকে শিব মন্দির দাবি উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের !

বাবরি মসজিদের জমিতে ভারতের সাম্প্রদায়িক সুপ্রিম কোর্ট থেকে অবৈধভাবে রাম মন্দির বানানোর নির্দেশের পর এবার মুসলিম সালতানাত মুঘল সম্রাট শাহজাহানের স্ত্রী মুমতাজের স্মৃতির অপূর্ব সৌধ ও ইসলামীক স্থাপত্যের নিদর্শন তাজমহলকে দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা নিজেদের শিব মন্দির হিসেবে দাবি করেছে।

কট্টর উগ্র হিন্দুদের দাবি, তাজমহল হলো শিবের মন্দির। আসল নাম তেজো মহালায়া। ওটা মুসলিমদের তৈরি সৌধ নয়, বরং প্রাচীনকালে হিন্দুদের তৈরি শিব মন্দির।

এই অযৌক্তিক দাবি বারবারই করে এসেছে ভারতের নানা হিন্দুত্ববাদী সংগঠনসহ শিবসেনার মতো রাজনৈতিক দলও। আর এবার তারা সরাসরি ঘোষণা করলো, তাজমহল কোনও মুসলিম সৌধ নয়, হিন্দু মন্দির। তাজমহল চত্বরে শিব ভক্তরা প্রত্যেক সোমবার শিবের পুজা এবং যজ্ঞের আয়োজন করতে চায়।

সম্প্রতি উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল শিব সেনার আগ্রা শহর কমিটির সভাপতি ভিনু লাভানিয়া হুমকি দিয়ে বলেছেন, তাজমহল কোনও মুসলিম সৌধ নয়।

এটা তেজো মহালয়া, ভগবান শিবের মন্দির। আমরা গোটা শ্রাবণ মাসজুড়ে প্রতি সোমবার তাজমহলে ঢুকে যজ্ঞ এবং পুজা করতে চাই।

শুধু তাই নয়, সোমবার যে কোনভাবে তারা তাজমহলে ঢুকবেই। প্রশাসন বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার ফল ভাল হবে না।

আর এই হুমকির পরই আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া যোগী সরকারকে একটি চিঠি লিখে তাজমহলের নিরাপত্তা বাড়াতে অনুরোধ করেছে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ১৯৫৮ সালের প্রত্নতত্ত্ব আইন অনুযায়ী কোনও পুরাতাত্ত্বিক সৌধে পুজা বা কোনও ধর্মীয় আচরণ নিষিদ্ধ।

১৬৩২-১৬৫৩ সালে নির্মিত ভারতের উত্তর প্রদেশে আগ্রায় অবস্থিত একটি রাজকীয় সমাধি তাজমহল। মুসলিম সালতানাত মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগমের (যিনি মুমতাজ মহল নামে পরিচিত) স্মৃতির উদ্দেশে এই তাজমহল নির্মাণ করেন।

বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম তাজমহল। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্বঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে এটি তালিকাভুক্ত করে। তখন থেকেই একে বিশ্ব ঐতিহ্যের সর্বজনীন প্রশংসিত শ্রেষ্ঠকর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়।