ইসলামঃ রসূল সঃ এঁর পূর্বে আরবে আল্লাহ পাকে বিশ্বাস

•লিখেছেনঃ আসমা আইয়ুব খান

ইসলাম হল একটিঘ চিরন্তন ও সত‍্য একটি ধর্ম। হযরত বাবা আদম আঃ ও মা হাওয়া আঃ এঁর সময় থেকে আজ পর্যন্ত সত‍্যের পথের দিশা দেখিয়ে মানবজাতিকে সত‍্যের পথের পথিক বানিয়ে আসছে এই সত‍্য ধর্ম। কিন্তু অমুসলিমরা অজ্ঞতা বশতঃ এই শান্তির ধর্মের বিরুদ্ধে নানান প্রশ্ন ও অভিযোগ করে আসছেন। এরকম একটি অভিযোগ হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর পিতার নাম কিভাবে ‘আব্দুল্লাহ’ বা আল্লাহর বান্দা হতে পারে?তাহলে কি তাঁর জন্মের পূর্বে আল্লাহপাকের নাম আরবরা অথবা বিশ্ববাসী জানত?

এটি একটি খুব সুন্দর প্রশ্ন। এপ্রশ্নের উত্তর নানান ভাবে দেওয়া যেতে পারে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছেঃ

“وما علينا إلا البلاغ المبين الآية”

আমরা আল্লাহ পাকের বান্দা। তিনি আমাদেরকে খলিফা বানিয়েছেন মানবজাতিকে পথ প্রদর্শনের জন‍্য এবং আমরা কাল কিয়ামতের দিন এবিষয়ে জিজ্ঞাসিত হব। অতয়েব আমাদেরকে এমন এক সুচিন্তিত পথে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যাতে আমরা অমুসলিম ব‍্যক্তিবর্গের নিকট আমাদের দাওয়াত কে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারি।

তাওহীদের একটি মূল বিষয় হলো, আল্লাহপাকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা এবং এবিষয়ে স্পষ্ট বিশ্বাস স্থাপন করা যে, তিনি অনাদি তাঁর নাম ও গুণ সহ। ইমামে আযম আবূ হানীফা রহঃ তাঁর আকায়েদ সংক্রান্ত বইতে বলেছেনঃ

لم يزل و لا يزال بأسمائه و صفاته ، لم يحدث له اسم ولا صفة

অর্থাৎ, তিনি অনাদি, তিনি অনন্ত স্বীয় নাম ও গুণ সহ। কোন নতুনত্ব নেই তাঁর নামে ও গুণে।

অতয়েব মহান স্রষ্টা আল্লাহ পাকের নাম কেবল নবী পূর্ব যুগে নয় বরং সর্বদাই ছিল, আছে ও থাকবে।

তবে আমাদের আলোচ‍্য বিষয় হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ব যুগ তথা জাহেলী যুগ নিয়ে।
জাহেলি যুগে তথা অজ্ঞতার যুগে আল্লাহ পাকের নামের অস্তিত্ব ছিল। এই অন্ধকার যুগে একদল মানুষ সত‍্যের মশাল ধরে মানুষের কাছে সত‍্যের আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁরা ইতিহাসে হানীফ নামে পরিচিত ছিলেন। ইতিহাস থেকে আমরা এর বহু প্রমাণ পেয়ে থাকি। তবে জাহেলী যুগে কেবল একত্ববাদীরা নন, বহু মুশরিকরাও আল্লাহর নামে বিশ্বাস রাখত। আমরা এবিষয়ে বহু প্রমাণ পেয়ে থাকি বিশেষতঃ যখন আমরা আরবী সাহিত্য নিয়ে চর্চা করি তখন। জাহেলী যুগের কবিগণ তাঁদের কাব‍্যে আল্লাহ পাকের নাম ও একত্ববাদের স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

আরবী সাহিত্যের অন্যতম কবি ছিলেন আবূ উমামা যিয়াদ বিন মুয়াবিয়া । তিনি মৃত্যুবরণ করেন ৬০৪ খৃষ্টাব্দে। তিনি মৃত্যুর সময় একটি কাব‍্য রচনা করেন যাতে তিনি আল্লাহ তায়ালার নাম উল্লেখ করে বলেছেন “لله دره”।

অপর এক দিকপাল কবি যুহায়ের ইবনে আবী সুলমা আল্লাহপাক ও রোজ কিয়ামতে বিশ্বাস করেন। তিনি ৬০৯ খৃষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর কাব‍্যে আল্লাহপাকের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে ‘আল্লাহ’ নাম ব‍্যবহার করে বলেছেনঃ

فلا تكتمن الله ما في صدوركم
ليخفي و مهما يكتم الله يعلم …

আরবের এক বিখ্যাত নেতা ছিলেন যায়েদ বিন আমর বিন নুফায়েল। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়‍্যত প্রাপ্তির পূর্বে মৃত্যু বরণ করেন। তিনি আরবের তদানীন্তন মূর্তি পূজার ঘোর বিরোধিতা করেন ও আল্লাহ পাকের একত্ববাদের সাক্ষ‍্য দিয়ে কবিতা রচনা করেছেনঃ

تركت اللات و العزي جميعا
كذالك يفعل الجلد الصبور
ولا هبلا أدين، و كان ربا
لنا في الدهر، إذ حلمي صغير
أربا واحدا ام الف رب
أدين، إذا تقسمت الأمور

জাহেলী যুগের হানিফ খৃষ্টান ওয়ারাকা বিন নওফলের কথা তো আমরা সবাই জানি। তিনি তিনি একজন একত্ববাদী ছিলেন এবং খৃষ্টান ধর্মের একজন মহা পন্ডিত ছিলেন। রসূল সঃ এঁর পূর্বে তাঁর নবুয়‍্যতের ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন। তিনি তাঁর কবিতায় আল্লাহ পাককে তাঁর একটি কবিতায় “যুল আরশ” , “রাব্বুল বারিয়‍্যাহ” প্রভৃতী নামে সম্বোধন করেছেন।

অনুরূপভাবে রসূল-পূর্ব যুগে বহু কবি ও সাহিত্যিক রাসূল সঃ এঁর পূর্বে আরবে আল্লাহর নামের প্রচলনের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। এমনকি বহু মুশরিক ও আল্লাহর নাম ব‍্যবহার করত। তারা মূলতঃ মূর্তিপূজক ছিল কিন্তু স্রষ্টা যে একজন তা তারা মানত। যেমনটি আজকের বহু হিন্দুদের মধ‍্যে দেখা যায়। যারা মূর্তি পূজার স্বত্বেও এটা বিশ্বাস করে যে, আসলে স্রষ্টা একজন। আসলে শয়তান তাদের ধোঁকায় ফেলে রেখেছে।

উপসংহারে বলা যায়, আল্লাহ পাক মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ও তাদের পরিক্ষা নিচ্ছেন। তিনি মানবজাতিকে সঠিক পথে আনায়নের জন‍্য একটি সুনির্দিষ্ট পথ বলে দিয়েছেন ও বহু পথপ্রদর্শকের পাঠিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে বহু নিদর্শন ও দেখিয়ে থাকেন। কিন্তু মানুষ তাতেও শিক্ষা গ্রহণ করে না।

টিকাঃ

ক। আল ফিকহুল আকবার

খ। তারীখ উল আদাবিল আরবী
গ। মাহাসিন উশ শে’র