মুসলিমরা যেভাবে অগ্রযাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়েছে । | TRT Bangla
Home Religion & History মুসলিমরা হারিয়ে গেছে নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

মুসলিমরা হারিয়ে গেছে নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

0
মুসলিমরা হারিয়ে গেছে নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

✍️স্পেনের জিব্রাল্টার প্রণালী থেকে ইরানের হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত,সিসিলী দ্বীপ থেকে মালদ্বীপ পর্যন্ত,ফ্রান্সের রোন নদী থেকে ইরাকের ফোরাত নদী পর্যন্ত,মিশরের নীল নদ থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত, লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত, আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত,স্পেনের আলহামরা প্রাসাদ থেকে ভারতের তাজমহল পর্যন্ত,চীনের মহাপ্রাচীর থেকে তুরস্কের কনস্টান্টিনোপলের(ইস্তানবুল)প্রাচীর পর্যন্ত, সিনাই (তুর) পর্বত থেকে উহুদ পর্বত পর্যন্ত, বলকান পার্বত্যাঞ্চল থেকে পিরোনিজের পার্বত্যাঞ্চল পর্যন্ত, রাশিয়ার ককেশাস পর্বতমালা থেকে আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা পর্যন্ত,সাহারা মরুভূমি থেকে পৃথিবীর ছাদ খ্যাত খোরাসানের পামির মালভূমি পর্যন্ত ,বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে মক্কা-মদিনা পর্যন্ত ছিল স্বর্ণযুগে মুসলমানদের সুবিশাল রাজত্ব বিস্তারের এক ভৌগোলিক সীমা;যা শুধু টিকে ছিল মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কারণে শত শত বছর! একসময় মুসলমানদের নাম শুনলে রোমের প্রতাপশালী বাদশাহ বা হিন্দুস্তানের রাজা থরথর করে কাঁপত আর আজ আমেরিকা,রাশিয়ার নাম শুনলে মুসলিমরা থরথর করে কাঁপে। একসময় ইটালীর রাজাসহ ইউরোপের বিভিন্ন শাসক খ্রিস্টানদেরকে শিক্ষিত করতে স্পেনের কর্ডোভা জামে মসজিদে (বিঃদ্রঃ তাফসীরে কুরতুবী এখানেই লিখা হয়েছিল। যেটির এক অংশ ছিল মসজিদ ও অপর অংশ ছিল বৈশ্বিক মাদ্রাসা;বর্তমানে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত গির্জা ) এবং বাগদাদের নিজামীয়া মাদ্রাসাতে (বিঃদ্রঃ হালাকু খান কর্তৃক বাগদাদ নগরী ধ্বংসের ফলে মাদ্রাসাটি ধ্বংস হয়ে যায়। তার নিকটে বর্তমানে নিজামীয়া বিশ্ববিদ্যালয় বানানো হয়েছে) ধরণা দিত আর আজ আমেরেরিকার হার্ভাড আর লণ্ডনের অক্সফোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলমানরা ধরণা দেয়। একসময় বিশ্ব শাসিত হত মদিনা শরীফ,দামেস্ক জামে মসজিদ,কর্ডোভা জামে মসজিদ, বাগদাদের নিজামীয়া মাদ্রাসা আর তুরস্কের তোপাকাপি প্যালেস থেকে আর এখন বিশ্ব শাসিত হয় হোয়াইট হাউজ,ভ্যাটিকেন সিটি,তেলআবিব, ক্রেমলিন আর নয়াদিল্লি থেকে!

 

মুসলমানরা হারিয়ে ফেলেছে নিজস্ব স্বকীয়তা ও ঈমানী

চেতনাকে। হারিয়ে ফেলেছে পূর্বসূরীদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাসকে! যার ফল আমরা ভোগ করছি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে। যারা আজ সন্ত্রাস দমনের নামে ধ্বংস করছে এক একটা মুসলিম দেশকে, তারাই যে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তা আমরা উপলব্ধি করছি না। যারা শুধু মুসলিম ভাইদেরকে নয় বরং তাদের বন্ধু জাপানী লক্ষ লক্ষ কাফেরদেরকে এক সপ্তাহের মধ্যেই হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে হত্যা করেছে পারমাণবিক যুদ্ধের খেলা খেলে। আর আমরা তাদের দ্বারস্থ হই শান্তির আশায়।আল্লাহ কবে মুসলমানদের সুবুদ্ধি দিবে! রাসূল সাঃ এর ভবিষ্যদ্বাণী ও কুরআনের আলোকে আমি আমার কথা বিশ্লেষন করব ঈমানী দায়িত্ব হিসেবে।

কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,

وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا

“তোমরা আল্লাহর দেওয়া রুজ্জুকে(ইসলামকে রশির সাথে তুলনা করা হয়েছে যা কখনও ছিড়ে যাবার নয়) শক্ত করে আকড়ে ধর। পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।স্মরণ কর! তোমরা ছিলে একে অপরের শত্রু।আল্লাহর রহমতে (ঈমানের দৌলত দিয়ে ) তোমাদের হৃদয়গুলোকে একত্রিত করে দিলেন। আল্লাহর রহমতে তোমরা পরস্পর বন্ধু হয়ে গেছ। (সূরা ইমরান:আয়াত ১০৩)

 

নবীজি সাঃ বলছেন,”মুসলমানরা একটি দেহের মত। দেহের কোন অংশে যদি আঘাত আসে তবে সমগ্র অংগই তার ব্যথায় ব্যথিত হয়।(মুসলিম শরীফ) ”

 

উসমান রাঃ হত্যার(তখন তা গুজব ছিল) প্রতিশোধ নিতে ১৪০০ সাহাবী বাবলা গাছের নিচে নবীজি সাঃ এর হাতে বায়াত হয়। নবীজি সাঃ এই মর্মে বায়াত করেছিলেন যে, উসমান হত্যার প্রতিশোধ নিতে হয়ত আমরা মক্কা বিজয় করে ছাড়ব নতুবা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করতে করতে সকলে শহীদ হয়ে যাব। আল্লাহ এই বায়তুল রেদওয়ানে মুসলমানদেরকে তাদের ভাইয়ের উদ্ধারের এই চমৎকার ঐক্য দেখে কুরআনে ঘোষণা করে দিলেন, ”

لَّقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ”

” আমি তাদের উপর রাজি হয়ে গেছি যারা গাছের নিচে বায়াতে অংশগ্রহণ করেছিল।”(সুরা ফাহেত:আয়াত ১৮)

এই ছিল নবী ও সাহাবীদের ঈমানের জ্যোতি।

একজন বোনের রক্তলেখা চিঠিতে যে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের মত নির্দয় বাদশাহ সিন্ধুর বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান করে মুহাম্মদ বিন কাসিমকে ভারতে উপমহাদেশে প্রেরণ করে রাজা দাহিরের বিরুদ্ধে। একজন খ্রিস্টান মেয়ে ফ্লোরিন্ডার সম্ভ্রমহানীর বেদনাদায়ক কাহিনী শুনে মুসা বিন নুসাইর তারেক বিন যিয়াদকে প্রেরণ করে স্পেনকে বিজয়ের জন্য।একজন বোনকে উদ্ধারের জন্য খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ তার হাজার হাজার সৈন্যবাহিনীর সর্বাগ্রে “লাব্বাইক(আমি হাজির) !” বলে এগিয়ে গেল খ্রিস্টানদের দূর্ভেদ্য দূর্গ আমুরিয়া জয় করতে। স্পেনের ৭০হাজার অসহায় মরিস্কোদের উদ্ধারের জন্য আলবাশারাতের নিকটে ঝড়ের বেগে ঝাঁপিয়ে পড়ল সমুদ্র ঈগল খ্যাত খাইরুদ্দীন বারবারুসা এবং ভূমধ্যসাগরে সলীল সমাধি করল স্পেনিশ সম্রাট পঞ্চম চার্লসের বিশাল নৌবহরকে প্রিভিযার ঐতিহাসিক সমুদ্র যুদ্ধে । বাগদাদের খিলাফত ,খাওয়ারিজম সম্রাজ্য,সেলজুক সাম্রাজ্যকে গ্রাস করে অগ্রসরমান তাতারী বিধ্বংসী থাবায় হাতে যখন প্রায় ১৫লাখের মত মুসলিম হত্যা ও হাজার হাজার মা-বোন ধর্ষিত হল এবং অসংখ্য মুসলমানদেরকে দাস বানানো হল এবং তৎকালীন ইসলামের সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু বাগদাদের বিখ্যাত লাইব্রেরিকে ফোরাতের রক্তে ভাসিয়ে দেওয়া হল,তখন সেই চেঙ্গিস – হালাকু ঝড়কে প্রতিহত করতে এগিয়ে এল সাইফুদ্দিন কুতুয আর চিতা খ্যাত ‘রুকনুদ্দিন বাইবার্স’ আইন জালুতের রণক্ষেত্রে। খ্রিস্টানরা যখন ফিলিস্তিনের মুসলমানদেরকে কাবাব বানিয়ে খাচ্ছিল এবং অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করে ও মেয়ে শিশুদের অপহরণ করে খ্রিস্টানদের মন-মানসিকতা গড়ে তুলছিল তখন সেই হারানো বায়তুল মোকাদ্দাস উদ্ধারে হিত্তিনের প্রান্তরে এগিয়ে এল সালাহউদ্দিন আইয়ুবী।

মুসলিম রাজ্যের সীমানা বিস্তৃতি করতে ও আল্লাহর জমীনে আল্লাহর কুরআনকে বাস্তবায়ন করতে কুতাইবা বিন মুসলিম ছুটে গেলেন তুর্কিমিনিস্তানের ট্রান্স অক্সিয়ানা থেকে চীনের সিংকিয়াং পর্যন্ত।সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহ ছুটে গেলেন কনস্টান্টিনোপল জয় করতে। সুলতান সুলেমান বেলগ্রেড শহর ও রোডস দ্বীপ ও হাঙ্গেরি দেশকে পদানত করে ৪৬বছর পর্যন্ত খিলাফতের সিংহাসনে বসে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বর্তমান ৪৮টি দেশে উসমানীয় রাজত্ব বিস্তৃতি করেন।প্রথমবারের মত বাইজেন্টাইন সম্রাটকে বন্দী করে তুরস্ক জয়ের ভিত্তি প্রস্তর করে যান সেলজুকের সুলতান আল্প আরসালান মানযিকার্টের মহারণে।মঙ্গোল আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত সেলজুকের আলাউদ্দীন কায়কোবাদের বাহিনীর পরাজয়কে জয়ে রূপান্তর করেন আর্তুগুলের বাহিনী।ধ্বংসপ্রায় স্পেনকে পতনের মুখ থেকে রক্ষা করেন falcon of quraish খ্যাত প্রথম আব্দুর রহমান। ইউসুফ বিন তাশফীন ধ্বংস প্রায় মুসলিম স্পেনকে আবারও আলোর মুখ দেখান মরক্কো থেকে রাজত্ব বিস্তার করে।স্পেনে মুসলিম রাজত্বকে গ্রাস করতে আসা অপ্রতিদ্বন্ধী খ্রিস্টান শক্তিকে আরও একবার নাকানি-চুবানি দিয়ে মুসলমানদেরকে রক্ষা করেন আল মনসুর আরিকের যুদ্ধে। কসোভার প্রান্তরে ক্রুশেডারদেরকে নাকানী – চুবানি দিয়ে সমগ্র বলকান জয় করে ইউরোপের বুকে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দেয় সুলতান মুরাদ তার পুত্র “বিদ্যুৎ”খ্যাত বায়াজিদ ইলদিরিমকে সাথে নিয়ে। ইতিহাস যাদের বারবার স্মরণ করে।খালেদ বিন ওয়ালীদ রাঃ এর তরবারিতে কাদেসীয়া,ইয়ারমুকে মুসলমানদের বিশ্ব বিজয়ের সুবাতাস বইতে থাকে।সালমান ফারসী রাঃ নদীর উপর দিয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে পারস্যের তথা কিসরার দম্ভকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়ে ইসলামের পতাকা উত্তোলন করে পৃথিবীর বুকে।

 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আরব ও তুর্কি জাতীয়তাবাদের খিলাফতবিরোধী প্রতারণার ফলশ্রুতিতে ১৯২৪ সালে তুরস্কে উসমানীয় খিলাফতের আনুষ্ঠানিকভাবে পতনের পর একটা একটা করে অঞ্চল মুসলমানদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশরা ভারত উপমহাদেশ দখল করে মীরজাফর নামক গাদ্দারের সহায়তায়,ইতিহাস থেকে মুসলিমরা শিক্ষা নেয় না।যেমনটি নেয় নি স্পেনের ববদিল খ্যাত আবু আব্দুল্লাহ থেকে।তেমনিভাবে আজ সৌদি নাপাক আমেরিকার আগ্রাসনে শিকার হচ্ছে সিনেমা ও নারী পুরুষ অবাধ চলাফেরা প্রদানকারী ও আমেরিকার সাথে বন্ধুত্বের স্বাক্ষরকারী সালমান নামক নতুন গাদ্দারের উত্থানে ও আমেরিকার সাপোর্টার সুদাইসি, আব্দুল আযীয মত বিখ্যাত দরবারি আলেমদের ছায়াতলে। সে তুলনায় এরদোগান ও ইমরান খান জাতিিসংঘে  হক্ব কথা বলার কারণে ও ইসলামের প্রতি আন্তরিকতা থাকার কারণে কিছুটা হলেও প্রশংসার দাবিদার, যদিও এতে অনেক ভাই মন খারাপ করবেন। তবে আমাদের সবকিছু বুঝতে হবে আবেগ দিয়ে নয় বরং বাস্তবতা, বিশ্বপরিস্থিতি আর কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে।

 

ইসলাম একটি নদীর ন্যায়। যার অনেকগুলো শাখা-প্রশাখা আছে। এক একটি শাখা হল এক একটি ইসলামিক সংগঠন। হতে পারে তা হামাস বা ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুডের মত কোন সংগঠন বা হতে পারে তালেবানদের মত  মুক্তিকামী  সংগঠন। হতে পারে তাবলীগের ন্যায় দাওয়াতী কোন সংগঠন।সকল শাখাই ইসলাম নামক নদীতে মিশেছে। মুসলমানরা দলের ইবাদত করবে না বরং আল্লাহর ইবাদত করবে। আল্লাহ তা’লাকে রাজিখুশি করার জন্য শরীয়াহ মোতাবেক যেই অংশটুকু যেই দলে পাব তার ততটুকু অংশ ভাল মনে করব বা গ্রহণ করব। অনেকে মনে করে যে, ৭৩টি দলে একটি জান্নাতে যাবে। তাহলে আমারটাই সঠিক বা পুরাপুরি হক্ব বা আমারটাতেই সব আছে। তা একদম ভুল বা গোমরাহী। আমি মনে করি যে, এই দল কিয়ামতের পর হবে হাশরের ময়দানে মুসলমানদের মধ্য থেকে তৈরি করা হবে। সেখান থেকে যারা কুরআন ও সুন্নাহের প্রকৃত অনুসারী বা তার সাপোর্টার তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত দলে প্রেরণ করা হবে। অনেকে সিরিয়ার আসাদ বা ইরানের খোমেনী বা লেবাননের হিজবুল্লাহ শিয়াদের ভালোবাসে। তাদেরকে আমি ঘৃণা করি। তারা মূলত আমার চিন্তাধারায় নদীতে না মিশে পুকুরে হাবুডুবু খাচ্ছে। তারা ইসলামের আক্বীদাকে কলুষিত করছে তাদের সর্বসম্মত কুফুরী কথা দ্বারা যা তাদের কিতাবে ও তাদের ভাষ্যে রয়েছে। তারা ফেতনা ছড়াচ্ছে রাসূল সাঃ এর দৌহিত্র হোসাইন রাঃ কে কারবালার শহীদ করে। তারা রাসূল সাঃ এর সাহাবীদের গালি দিচ্ছে ও কাফের বলছে।তারা আয়েশা রাঃ কে অপবাদ দিচ্ছে ও কাফের বলছে। তারা বলছে যে কুরআন পরিবর্তন হয়ে গেছে।শিয়ারা তাদের কুরআনে সুরা ফাতেহার অনুকরণে সুরা বেলায়েত বানিয়েছে। তারা কাবার ব্যাপারে সন্দেহ করে বলে যে তা মক্কা না সিরিয়াতে অবস্থিত। তারা বলছে যে তাদের ইমামগণ নিষ্পাপ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করতে পারেন এবং তাদের পাওয়ার এমন যে তা নবী ও রাসুলুলদের উপরে। নিঃসন্দেহে যারা তাদের মুসলমান মনে করে তাদের যুগ যুগ ধরে তাদের কুকর্ম দেখা ও শুনার পরও তারা মুসলিম নামধারী নতুন গাদ্দার বা মুনাফিক।

 

আজ আমরা অমুসলমানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করছি। যদি তা সাধারণ বন্ধুত্ব হয় তবে তেমন সমস্যা নাই কিন্তু যদি তা সামরিক দিক দিয়ে মুসলিম দেশ ধ্বংস ও মুসলমানদের হত্যার জন্য বন্ধুত্ব হয় তবে ঈমান – আমল প্রশ্নবিদ্ধ। আজ কাফেরদের ঘাটি জাজিরাতুল আরবে পৌঁছে গেছে। অথচ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ, “জাজিরাতুল আরব থেকে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের বের করে দাও।” যখন সৌদির খাইবার পর্যন্ত ইহুদী-খ্রিস্টানদের আধিপত্য বিস্তৃত হবে যা মদীনা থেকে ১৫০কিলোমিটার দুরে এবং যখন বায়তুল মোকাদ্দাস ইহুদীদের দখলে যাবে এবং সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের প্রতি ৯জনের ১জনকে ঈমান আনার কারণে হত্যা করা হবে এবং সিরিয়ার দাবিক বা আমাকে রোমান তথা ইউরোপীয় খ্রিস্টান বা আমেরিকান খ্রিস্টান (তারা মূলত ইউরোপ থেকে এসে রেড ইন্ডিয়ানদেরকে মেরে আমেরিকা দখল করেছে) দের স্থলপথে আধিপত্য বিস্তার করবে ও সিরিয়া রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে। ইরাক ক্ষতবিক্ষত হবে বা দুর্ভিক্ষে পর্যদুস্ত হবে তখন বুঝতে হবে যে মুসলমানদের সর্বশেষ বীর মাহদী খুবই সন্নিকটে! যখন দেখবে মক্কা ও মদিনা প্রবেশের জন্য ৭টি রাস্তা তৈরি হয়েছে,মক্কা নগরীতে পাহাড়সম উচ্চ দালানকোঠা তৈরী হয়েছে,সমগ্র মক্কাতে পানি সরবরাহ করা হয়েছে (বর্তমানে জমজম কূপ ডেকে দিয়ে তার পানি ব্যবস্থা পাইপলাইনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পাহাড় কেটে টানেল তথা ভূগর্ভস্থ রাস্তা তৈরি করা হয়েছে ( যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ) ,(জাজিরাতুল আরবের হেজাজ তথা বর্তমান সৌদি আরব) পবিত্র ভূমিতে নাচ-গান শুরু হয়েছে, মেয়েরা বেপর্দা হয়ে চলছে তখন বুঝবে যে তা জাহেলিয়াতের যুগকেও হার মানিয়েছে। জ্ঞান থাকতেও মানুষ কুকুরের চাইতেই নিকৃষ্ট। যখন দেখবে মুসলমানদের একে একে সকল ভূমি কুফরী শক্তি দখল করে নিচ্ছে বিভিন্ন চক্রান্তে এবং মুসলিমরা দাড়াবার মত কোন শক্তি পাচ্ছে না,জাজিরাতুল আরবে লবণাক্ত দ্বীপে দাজ্জালের জন্য সাদা প্রাসাদ তৈরী হবে,মক্কা ও মদীনাকে সাদা পাথরে চাকচিক্য করা হবে এবং সিরিয়ার দামেস্কে সাদা মিনার তৈরি হবে(রাসুল্লাহ সাঃ যখন বলেছেন তখন কোন সাদা মিনার ছিল না এবং সিরিয়া তখনও পুরাপুরি বিজয় হয় নি। উক্ত মিনার তৈরি হয়েছে মামলুক সালতানাতের সময় ১৩-১৪শতকের দিকে) , খোরাসান থেকে কালো পতাকার উত্থান, ফোরাত নদী শুকিয়ে গিয়ে তা থেকে স্বর্ণের পাহাড় বের হবে (বিশেষত, এটা হতে পারে স্বর্ণের মত দামি কোন বস্তুর খনি।অনেকে তেলের খনি মনে করে থাকে। আসলে পেট্রোলিয়ামের দাম স্বর্ণের মত হলেই হয় না। কারণ পেট্রোলিয়াম থাকে মাটির নিচে খনিতে জীবাশ্ম হিসেবে। আর স্বর্ণ থাকে মাটির নিচে। পাহাড় যেমন শক্ত থাকে তেমনিভাবে তা যদি স্বর্ণের পাহাড় হয়ে যায় তবে তা তার আকৃতি ঠিক থাকবে যা পাহাড়ের আকৃতির সাদৃশ। আর স্বর্ণের পাহাড় দেখলে যে কেউ আকৃষ্ট হবে এটাই স্বাভাবিক। যেমনটি বলা হয় যে বাংলাদেশের সিলেটে এক পাহাড়ে গলিত ইউরেনিয়াম ও গলিত সোনা তথা “পেট্রোলিয়াম ‘পাওয়া গেছে। আমরা জানি যে, ইউরেনিয়াম বর্তমানে সবচাইতে দামি তেজস্ক্রিয় পদার্থ যা সকল উন্নত রাষ্ট্রগুলো চায়।তাই, এইগুলাও হতে পারে তবে স্বর্ণ হওয়াই অধিক যুক্তিপূর্ণ। ফোরাত নদীর পানি বর্তমানে অতীতের চাইতে অনেকটা কমছে। এটা না শুকানো পর্যন্ত সঠিক বলা যাবে না। হয়ত তার তলদেশ থেকে কোন পাহাড় সদৃশ কিছু পাওয়া যাবে যার ভিতর স্বর্ণ বা এরচাইতেও মূল্যবান বস্তু থাকবে বা তার তলদেশের এক অংশ পাহাড়ের মত দেখা যাবে যা পুরাপুরি স্বর্ণ বা তার সমান মর্যাদার মূল্যবান কোন বস্তুতে পরিপূর্ণ থাকবে যেটা দখলের জন্য প্রতি ১০০জনের ৯৯ জন মারা যাবে। যেই সম্পদ রাসুল্লাহ সাঃ মুসলমানদেরকে নিতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহই জানে এটা কবে বের হবে), ইরাকে ঘন ভূমিকম্প হবে, বিগত ১০০বছরের মধ্যে দ্রুতগতিতে ইসরাইলে জবরদখলকৃত তাবরিয়া হ্রদের পানি শুকিয়ে যেতে শুরু করা (বিশেষত, পুরা শুকিয়ে গেলে দাজ্জাল বের হয়ে আসবে। যা একই সংগে ইমাম মাহদী, দাজ্জাল, ইসা আঃ অবতরণ ও ইসা আঃ এর জীবদ্দশায় ইয়াজুজ মাজুজ বের হওয়া ইত্যাদি nuclear chain reaction এর মত চলতে থাকবে। একটা শুরু হলে আর থামবে না।শাম থেকে আল্লাহর প্রেরিত রহমতের বাতাসে সকল মুসলিম মৃত্যুবরণের পর তা কিয়ামতের দিকে গড়াবে অবশিষ্ট কাফেরদের উপর।) ,ইহুদী কর্তৃক ইসরাইলে গারকাদ বৃক্ষ বেশি করে লাগানো(এই বৃক্ষ ইহুদীদের অবস্থান বলবে না ), ফিলিস্তিনে জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা, বায়তুল মোকাদ্দাস ভেঙ্গে সোলেমান মন্দির তৈরির কাজ শুরু হবে তখন বুঝবে শেষ জামানা খুবই সন্নিকটে। সবগুলো সত্যতা না হলেও সত্যের কাছাকাছি হবে। আল্লাহ এ ব্যাপারে ভালো জানেন।কোনটা জানার ভুল থাকলে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

 

এখন মায়ানমার, ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, বসনিয়া,চেচনিয়া,হায়দ্রাবাদ,সিকিম,আসাম,থাইল্যান্ডের পাত্তানী, ফিলিপাইনের মিন্দানাও,ককেশাস, বলকান,আফ্রিকা, মিশর, আফগানিস্তান,সিরিয়া,চীনের উইঘুর অধ্যুষিত সিংকিয়াং,শাপলাচত্বরে হেফাজত আর পিলখানায় সেনাবাহিনী ট্রাজেডি, ইরাকে মুসলমানদের হত্যার কথা আপনারাই একটু চিন্তা করুন যে আসলে আমরা কোন অবস্থানে রয়েছি।এখনও হক্ব কথা না বলতে পারলে কি কবরে গিয়ে বলব!

 

এটা ঠিক যে, মাহদী যদি এসেও যায় আমাদের জীবদ্দশায় তবে অধিকাংশ মুসলিমরা তাকে চিনতে না পেয়ে সৌদি সালমানের মত মুনাফিক বা ইরান বা সিরিয়ার শিয়া নেতাদের অধীনে যুদ্ধ করে তাকে ধরতে বায়দা পর্যন্ত পৌঁছাবে। অতঃপর জিব্রাইল আঃ এর নির্দেশে তারা বায়দাতে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারবে। এভাবে সম্ভবত ৭০হাজার মুসলিম নামধারী সৈন্য মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে ভূমিধ্বসে তলিয়ে যাবে। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর ভবিষ্যদ্বাণী তাই বলছে। এ ঘটনার পর সিরিয়ার আলেম ওলামা ও তাদের সমর্থনকারী বিশ্বের মুসলিম আলেমরা মাহদী ও তার সংগী তথা বদরের সমানসংখ্যক ৩১৩জন যোদ্ধার সাথে হয়ে সমগ্র বিশ্বে মাহদীর পতাকালে সমবেত হতে আহ্বান করবে। মুনাফিক বাহিনী শেষ হওয়ার পর যে মুসলিম মাহদীর সংগী হওয়া থেকে গাফেল হবে সেদিন তার মত হতভাগা লোক আর কেউ হবে না।আর সেদিন যেসকল পুরুষেরা মাহদীর বিরুদ্ধচারণ করবে না বরং ঘরে বসে থাকবে তার মত আর গনীমতের বঞ্চিত লোক কেউ হবে না,কোন সংগত উজর ছাড়া তাতে শরীক না হলে সে মুনাফিক দলে অন্তর্ভুক্ত হতেও পারে(আল্লাহ ভালো জানেন। কারণ, কোন মুসলমান সেইদিনগুলোর বরকতময় জিহাদ থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না) । আলফিতানের হাদিসে আছে যে,”মাহদীর সাথে শরীক হওয়ার মুসলমানদের তিনভাগের এক অংশ ময়দান ত্যাগ করবে( যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে পালিয়ে যাবে বা কাফেরদের সংগ দিবে গাদ্দারী করে ) । আরেক অংশ শহীদ হয়ে যাবে যারা বদরের শহীদদের মত কদর পাবে। আরেকাংশ গাজী হবে যাদেরকে কোন ফেতনাই স্পর্শ করতে পারবে না।”

আর যে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য দাড়িয়ে যাবে কাফেরদের সাথে অথবা যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করবে তখন তার ভাগ্যে জাহান্নাম ছাড়া আর কিই বা থাকবে!

يُرِيدُونَ أَن يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَن يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ.هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ.

 

তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ অবশ্যই তাঁর নূরের পূর্ণতা বিধান করবেন, যদিও কাফেররা তা অপ্রীতিকর মনে করে।

তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।(সূরা তওবা :আয়াত ৩২-৩৩)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ يُسَارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشَىٰ أَن تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ فَعَسَى اللَّهُ أَن يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ أَوْ أَمْرٍ مِّنْ عِندِهِ فَيُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا أَسَرُّوا فِي أَنفُسِهِمْ نَادِمِينَ

হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

বস্তুতঃ যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, তাদেরকে আপনি দেখবেন, দৌড়ে গিয়ে তাদেরই মধ্যে প্রবেশ করে। তারা বলেঃ আমরা আশঙ্কা করি, পাছে না আমরা কোন দুর্ঘটনায় পতিত হই। অতএব, সেদিন দুরে নয়, যেদিন আল্লাহ তা’আলা বিজয় প্রকাশ করবেন অথবা নিজের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ দেবেন-ফলে তারা স্বীয় গোপন মনোভাবের জন্যে অনুতপ্ত হবে।(সূরা মায়েদাহ :আয়াত ৫১-৫২)

فَهَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَن تَأْتِيَهُم بَغْتَةً فَقَدْ جَاءَ أَشْرَاطُهَا فَأَنَّىٰ لَهُمْ إِذَا جَاءَتْهُمْ ذِكْرَاهُمْ

 

তারা শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে, কেয়ামত অকস্মাৎ তাদের কাছে এসে পড়ুক। বস্তুতঃ কেয়ামতের লক্ষণসমূহ (বিঃদ্রঃ আয়াত নাযিলের সময় রাসুল্লাহ সাঃ এর জন্ম,চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত ইত্যাদি) তো এসেই পড়েছে। সুতরাং কেয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কেমন করে ?(সূরা মুহাম্মদ :আয়াত ১৮)

আপনাদের প্রিয় ওয়েবসাইট TRT Bangla এন্ড্রয়েড এপ্স লঞ্চ করেছে। প্রত্যেকে নিজের মোবাইলে ইন্সটল করতে ছবিতে ক্লিক করুন।
TRT Bangla

FREE
VIEW