তুর্কি স্থাপনার অনন্য নিদর্শন রাবি কেন্দ্রীয় মসজিদ

রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করেই রয়েছে প্রশাসনিক ভবন। এর ডান দিকে সামনে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে একটু আলাদা করে নির্মাণ করা সুউচ্চ মিনার। সৌন্দর্য বাড়াতে নির্মাণ করা হয়েছে লাইট পোস্টসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন স্থাপনাও। সব থেকে আকর্ষণীয় দিক হলো সুবিশাল অভ্যন্তরীণ জায়গায় নেই কোন পিলার। মূল কাঠামোর মধ্যবর্তীস্থানে উপরের দিকে বিশালাকার গম্বুজ। বিবরণটি তুর্কি স্থাপনার অনন্য নিদর্শন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের। যেটি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য-শোভাকে বাড়িয়ে সূচনা করেছে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ সালের ১৩ এপ্রিল প্রায় তিন একর জায়গায় এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর মূল কাঠামো ৫২ বাই ৫২ গজ। তৎকালীন ভিসি প্রফেসর সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ঢাকার বাইতুল মোকাররম মসজিদের নকশা প্রণেতা ‘থারিয়ানীর’ নকশার আলোকে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে। মসজিদটির নির্মাণ ব্যয় তৎকালীন তিন লাখ ৭৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও কাজ শেষ করতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় আট লাখ টাকা।
এ ছাড়াও বারান্দা ও বারান্দার বাইরের যে অংশ রয়েছে তা মূল কাঠামোর প্রায় দ্বিগুণ। মূল ভবনের অভ্যন্তরে মুসল্লি ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০০। বাইরের ফাঁকা জায়গাসহ এই মসজিদে প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করতে পারেন।
মসজিদের আঙ্গিনাকে মূল ক্যাম্পাস থেকে পৃথক ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য চারপাশে আছে দেয়াল। আঙ্গিনাজুড়ে রয়েছে সারিবদ্ধ ঝাউ গাছ। দক্ষিণ পাশে ফোয়ারা, ওজুখানা, অফিস রুম ও শৌচাগার। দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে পেশ ইমামের বাংলো। এ ছাড়া রয়েছে হরেক রকমের ফলের গাছ ও ঈদগাহ। শ্বেত-শুভ্র ঝাড়বাতিগুলো এতই মনোরম যে নির্মাণের প্রতিটি স্তরের সাথেই তা একবারে মিশে গেছে।
মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মাওলানা জামাল উদ্দিন। বর্তমানে পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মো: নাসির উদ্দিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মসজিদ পরিচালনার জন্য ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি রয়েছে। প্রতি দু’বছর পরপর এই কমিটি গঠন করা হয়। মসজিদের পেশ ইমাম ও একজন মুয়াজ্জিন আছেন। একজন ঝাড়–ধার, একজন খাদেম ও তিনজন মালিসহ ছয়জন সাধারণ খাদেম রয়েছেন। এ ছাড়াও কবরস্থান তত্ত্বাবধায়নের জন্য একজন চুক্তিভিত্তিক খাদেম আছেন।
তবে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদের বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে বলে জানান মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা। তারা জানান, মসজিদের পাশেই রয়েছে শহীদ মিনার ও মুক্তমঞ্চ। আসর ও মাগরিবের প্রায় সময়ই এই মঞ্চে উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করা হয়। যার কারণে নামাজরত মুসল্লিরা অসুবিধায় পড়েন।
এ ছাড়া জুমার নামাজে অতিরিক্ত মুসল্লিদের চাপে বারান্দায় রোদে কষ্ট করে নামাজ আদায় করতে হয়। এ ক্ষেত্রে বারান্দায় ছাদ নির্মাণ করা জরুরি বলে মনে করেন মুসল্লিরা।
একই সাথে মসজিদ পাঠাগারটিকে আরো সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। বইয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে অধ্যয়নের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও যুগোপযগী করার দাবি মসজিদের ইমামের। এ দিকে মসজিদের পাঠাগারটি আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত খোলা থাকলেও জোহরের নামাজ থেকে এশার নামাজের আগ পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি মুসল্লিদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ছাড়াও, পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, গোরস্থান মসজিদ, ছেলেদের আবাসিক হলে ১১টি মসজিদ, পরিবহন মার্কেটে একটি, কর্মচারীদের জন্য একটি ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ ক্যাম্পাসে মোট ১৮টি মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদে বিশেষ ধর্মীয় দিন বা উৎসবগুলোতে মুসল্লিদের প্রচুর ভিড় হয়।