Home Religion & History পান-সিগারেট খাওয়া হারাম নাকি মাকরুহ্?

পান-সিগারেট খাওয়া হারাম নাকি মাকরুহ্?

আমাদের ঘনিষ্ঠ জনকে সিগারেটখোর বলে প্রায় সময়ই তিরস্কার করি। সিগারেট বর্জনের জন্য বারবার তাগাদা দেই। কে শুনে কার কথা! সিগারেটই তাদের কাছে অক্সিজেন! সিগারেট না পেলে সে পাগলের মতো অস্থির হয়ে যায়!

মেডিকেল বিজ্ঞান বলে, ফুসফুসে ক্যান্সারের মৃত ব্যক্তির ৯০% এর বেশি হচ্ছে বিড়ি, সিগারেট তামাক সেবনকারী।

অনেক আলেম সিগারেট খাওয়াকে “মাকরূহ” বলে ফতোয়া দেয়। প্রকৃতপক্ষে তাদের সিগারেটের ক্ষতিকর পরিমাণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। তাই হয়তো এই ফতোয়া!

“মাকরূহ” বলে ফতোয়া দাতাদের অধিকাংশই পান জর্দাখোর। তারা যদি সিগারেটকে হারাম বলে ফতোয়া দেয় তবে সাধারণ মানুষ জিজ্ঞাসা করবে- আপনি যে জর্দা দিয়ে পান খাচ্ছেন সেটাও তামাক আর আমি যে সিগারেট খাচ্ছি সেটাও তামাক, আপনি হুজুর বিধায় আপনারটা জায়েজ হলে গেলো আর আমারটা হারাম হয়ে গেলো?

তবে বিনা জর্দাতে যদি কেউ পান খায় তবে সেটা হালাল হবে। সিগারেট খাওয়া এমন একটি বদ অভ্যাস যা নিজের ক্ষতির পাশাপাশি অন্যের ক্ষতি করে থাকে। সিগারেটের বর্জনকৃত ধোঁয়া অন্য মানুষের নাকে দিয়ে তাঁর ফুসফুসে প্রবেশ করে ফলে সেই লোকটির ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারো কি কোন অধিকার আছে অন্যের ক্ষতি করা?

আর বিনা কারনে অন্যকে কষ্ট দেয়া ও ক্ষতি করা একটি মারাত্মক কবিরা গোনাহ।
মহান আল্লাহ্‌ বলেন- “যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।”
[সুরা আল আহযাবঃ-৫৮]

তাছাড়া রাসূল সাঃ পেয়াজ রসুন খেয়ে মসজিদে যেতে নিষেধ করেছেন দুর্গন্ধের কারনে। পেয়াজ রসুনের চেয়ে বহুগুণে দুর্গন্ধযুক্ত হচ্ছে বিড়ি সিগারেট।
রাসূল সাঃ বলেন- “কখনও কেউ যদি কাঁচা রসুন বা পেঁয়াজ খায় সে আমার কাছ থেকে, মসজিদ থেকে দূরে থাকবে।”[বুখারীঃ-৮৫৫]

বস্তুত জর্দা-সিগারেট খাওয়াই হারাম।
মহান আল্লাহ্‌ বলেন- “তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে আর অপবিত্র বস্তু হারাম করা হয়েছে।”
[সূরা আরাফঃ-১৫৭]

আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন বলুন তো সিগারেট কি পবিত্র বস্তু নাকি অপবিত্র বস্তু?

আর সিগারেটের মতো একটি ফালতু খাদ্য অপচয়ের মধ্যে পড়ে। শত শত কোটি টাকা পুড়িয়ে ছাড়খার করে দেয়া হয় এই ধোঁয়া উড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে। তাছাড়া এই সিগারেটের নেগেটিভ প্রভাব যে কতটা ভয়াবহ তা আমাদের সকলেরই জানা। এটা অর্থনৈতিক অপচয়।
কুরআনে বলা হয়েছে- “পানাহার করো কিন্তু অপচয় করবে না।” [সূরা আরাফঃ-৩১]

পবিত্র কুরআনে আরো বলা হয়েছে- “তোমরা অপচয় করো না, বাজে খরচ করো না, যারা অপচয় করে তারা তো শয়তানের ভাই।”
[সূরা আল ইসরাঃ-২৬/১৭]

তাই অপচয়কৃত এমন একটি নিকৃষ্ট খাদ্য কি করে জায়েজ হতে পারে?
মহান আল্লাহ্ বলেনঃ-
“তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না।”
[সুরা বাকারাঃ-১৯৫]
মহান আল্লাহ্‌ আরো বলেনঃ “তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না।” [সুরা নিসাঃ-২৯]

সিগারেট পানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে এটা যে কোন ব্যক্তিই বুঝার কথা।

আমরা সবাই জানি আত্মহত্যা করা মহাপাপ।
অথচ এটাও আমরা সবাই জানি যে, সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে- ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর/ ধূমপান মৃত্যু ঘটায়/ধূমপানের কারনে স্ট্রোক হয় ইত্যাদি।
.
সিগারেটের মূল উপাদান হচ্ছে- তামাক। তামাক একটি খুবই ঘাতক বস্তু। এই তামাক মানুষের শরীরে কান্সার হওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর তামাকের ধোঁয়াতে নিকোটিন ছাড়াও আরো প্রায় চার হাজার রকমের রসায়নিক দ্রব্য থাকে। এইগুলি উৎপন্ন হয় তামাকের পোড়ার জন্য, তাছাড়া সিগারেট তৈরীর সময় তামাক পাতায় নানা রকমের কেমিক্যাল বা রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয়, সেই সব কেমিক্যালের পোড়ার সময় নানা প্রতিক্রিয়ার জন্য হাজার রকমের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরী হয়।

যেটা সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করে সেটা হ’ল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কনিকা যেগুলি বায়বীয় বা গ্যাসের আকারে বেরিয়ে আসে। এছাড়া কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস ও টার (অনেকটা আলকাতরার মত) রসায়নিক জিনিসও বেরিয়ে আসে সেটাও মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।

গবেষণায় জানা গেছে ধূমপানের কারনে নিম্নোক্ত সমস্যা হতে পারে——
ফুসফুসে ক্যান্সার, কিডনীতে ক্যান্সার, ব্ল্যাড ক্যান্সার,
হাই ব্লাড প্রেশার, অ্যাজমা, ইম্পাইসেমা, ব্রঙ্কাইটিস,
ব্রেন ষ্ট্রোক, ইত্যাদি এমন আরো মারাত্মক রোগ হয়।
তাই এমন মরনঘাতী একটা বস্তু কি করে হালাল হতে পারে?

অতএব একথা এখন প্রমানিত যে- তামাক, জর্দা, বিড়ি, সিগারেট, গুল ইত্যাদি খাওয়া হারাম।
সূতরাং সত্যটা গ্রহণ করার মধ্যেই রয়েছে কল্যাণ!!

লেখক : আবু কাউসার ইউসুফ।

আপনাদের প্রিয় ওয়েবসাইট TRT Bangla এন্ড্রয়েড এপ্স লঞ্চ করেছে। প্রত্যেকে নিজের মোবাইলে ইন্সটল করতে ছবিতে ক্লিক করুন।