Breaking News

আজকে তবে ভোর হল মা সকাল হবে কবে?

 

উত্তর পূর্ব সিরিয়ার কোন এক মেঠো পথের পাশে ছোট্ট কুঁড়ে তে বাস করত ছোট্ট মেয়ে সূরিয়া। এইতো সেদিন একটি বুলেট তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল তার পিতা কে, কেড়ে নিয়েছিল তার রাজত্বের রাজাকেই! তার ছোট্ট স্বপ্নের রাজপ্রাসাদকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল শোষনকারীর বুলেট। তার যে ছোট্ট বন্ধুটি, যার সাথে সে স্কুলে যেত একই সাথে ! তাকেও কি রেহাই দিয়েছে মানুষ রূপী নরপশুরা? বিদ‍্যালয়ের প্রতিটি ইঁট পাথরের সাথে সাথেই ধ্বংস হয়ে গেছে তার বেঁচে থাকার আশা টুকুও। ওরা নিশুতি রাতে এসে ধরে নিয়ে গেছে তার পড়শী দের! আর ফেরে নি তারা! হয় তারা সূরিয়াকে ছেড়ে চাঁদের পড়শী হয়ে গেছে। তাইতো আজও সে আঁধারে অশ্রু জলে তারাদের জগতে খুঁজে বেড়ায় তার আপনজন দের।

সুরিয়ার মতো বহু সিরীয় বাসী ! যাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিমেষেই আঁধারে ডুবে গেছে। পশ্চিমার সন্ত্রাসী রা স্বাধীনতার ধ্বজা ধরে পরাধীনতার শৃঙ্খলাবদ্ধ করেছে তাদের। ওরা বলে যে ওরা শান্তির দূত! তাহলে বুলেটেই কি তাদের শান্তি’র বাস? নাকি নিরীহ শিশুদের নিথর দেহ আর তাদের ভেঙে যাওয়া স্বপ্নগুলোর মধ‍্যে তারা শান্তির প্রাসাদ খোঁজে? শান্তির দেবদূতের কলম কেন শিক্ষালয়ের বিরুদ্ধে ? এ প্রশ্নের উত্তর কি খুঁজে পাওয়া যাবে?

এইরকম ভাবে উত্তর সিরিয়াতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল তথাকথিত Syrian Democratic Forces নামক সন্ত্রাসীরা। এদের লক্ষ হল সূরিয়ার মতো হাজারো সিরিয়বাসীর প্রাণপ্রিয় জন্মভূমিকে কেড়ে নিয়ে , তাদেরকে নিজভূমে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করবে। ইতিমধ‍্যে পাশ্চাত্য ও তাদের গোলামদের সহায়তায় এরা সিরিয়ার এক বড় অংশ দখল করে সেখানে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, কায়েম করেছে অত‍্যাচার আর শোষণের রাজত্ব। যারা অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাদের মেরুদন্ড। এমনকি পাপিষ্ঠরা ক্ষমা করে নি নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের। বন্দুকের গুলি অথবা লাঠি দিয়ে তাদের জীবন উপন‍্যাসৈর ইতি টেনেছে এই সন্ত্রাসী রা। কেও এগিয়ে আসে নি এদের অশ্রু মুছে দিতে।

অবশেষে ছোট্ট সুরিয়া দের ন‍্যায় ফিরিয়ে দিতে এগিয়ে এল প্রকৃত শান্তির দূতেরা, শহীদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ‘মুহাম্মাদী সেনাদল’! অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তারা বদ্ধপরিকর। রক্ত- পিশাচদের রক্ত দিয়ে শান্তি ও ন‍্যায়ের নতুন অধ‍্যায় রচনা করতে এই দেবদূতরা নিজ ভূমি ত‍্যাগ করে এসেছেন, ছেড়ে এসেছেন নিজের আপনজনদের ! অত‍্যাচারীত সুরিয়া দের মুখে হাসি ফোটাতে বিসর্জন দিয়ে এসেছেন নিজেদের হাসিকে!

আজ সন্ধ্যায় যখন আমরা কেবলই চা খেতে বসেছি তখন সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের দালান কোঠায় বজ্রাঘাত হানা শুরু করেছে তুরস্কের সেনাবাহিনী। তুরস্কের সমর্থনে সেনা সরিয়ে নিয়েছে আমেরিকা, তুরস্কের সমর্থন দিয়েছে রাশিয়া! কম‍্যিউনিজমের মুখোশধারী এই সন্ত্রাসীরা একসময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়েছিল তা কি রাশিয়া ভূলে যাবে? তারা কার স্বার্থে কাজ করছে তা কি পরিস্কার নয়?

আজ এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ায় নি কেও। কথায় বলে উপর ওয়ালার মার শেষ রাতে। আর এভাবেই হয় অত‍্যাচারীদের পরিণতি, রচিত হয় তাদের ঐতিহাসিক কবর।

আজ হয়ত সুরিয়া নতুন করে ভোরের আলো দেখছে, নতুন করে সকাল হবার আশায় তার মুখে মুচকি হাসি ফুটেছে।

লিখেছেন মুহাম্মাদ ইয়াসির আরাফাত মল্লিক

Check Also

মুক্তমতঃ ওলামাদের প্রতি আহ্বান

পরম করুনাময় ও মহান দয়ালু আল্লাহ পাকের নামে শুরু করছি। বর্তমান মুসলিম সমাজ একটি অতি …

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.