হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব নিরসনে বাঙালি মুসলিমদের কর্তব্য

মুহাম্মাদ ইয়াসির আরাফাত মল্লিক|


বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব অনেকটাই প্রকট আর এটা থাকাটা অনেকটাই স্বাভাবিক। একজন সাহিত্য মঞ্জরীর বল্লরীবেষ্টিত কুঞ্জবাসী হিসেবে অন্ততঃ আমি এটাই মনে করি। কেন এটা স্বাভাবিক সেটা সেটার প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গেলে একটা মোটা বই লেখা হয়ে যাবে। তবে আমি অতি সংক্ষিপ্ত আকারে সেটা জানাব।‌

বাঙালি হিন্দু সমাজে মুসলিমদের প্রতি যে সাম্প্রদায়িক বিরূপ মনোভাব রয়েছে আমার মতে তার পেছনে তিনটি কারণ দায়ী রয়েছে।

১) বর্ণবৈষম্য
২) সাহিত্য ও ঐতিহাসিক সন্ত্রাস
৩) বাঙালি মুসলমানের লক্ষ্যহীন জীবন ও পঙ্গু মুসলিম সমাজের স্থবিরতা।

বাঙালি হিন্দু সমাজের মধ্যে মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের প্রথম ও আমার মতে প্রধান কারণ হল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান ‘বর্ণবৈষম্য’ ও ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রবল প্রভাব। বর্ণবৈষম্যের বিষয়ে আমি পূর্বেও বহু আলোচনা করেছি।

বাঙালি হিন্দু সমাজের মধ্যে মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের প্রথম ও আমার মতে প্রধান কারণ হল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান ‘বর্ণবৈষম্য’ ও ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রবল প্রভাব। বর্ণবৈষম্যের বিষয়ে আমি পূর্বেও বহু আলোচনা করেছি।

ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতিতে মুষ্টিমেয় ব্রাহ্মণদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি প্রবল। ভারতীয় শাসন পরিকাঠামোর দিকে লক্ষ্য করলে অন্ততঃ এই ধারণাটি পরিস্কার হয়ে যায়। অথচঃ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, আর্যদের পূর্বে ভারতে এইসব জাতপাতের চিহ্ন ছিল না। আবার এইসব ব্রাহ্মণরা কিন্তু ভারতের মূল নিবাসী অথবা ভূমিপুত্র নন। মূল নিবাসী বলা হয় আর্যদের ভারতে আগমনের পূর্বে যাঁরা ছিলেন তাঁরা। আর তাঁদেরকেই আবার ভূমিপুত্র বলা হয় কারণ তাঁরাই হলেন এই ভূমির প্রকৃত সন্তান। আবার তাঁরাই হলেন সংখ্যা গরিষ্ঠ এজন্য তাঁদেরকে অধিজন বলা হয়ে থাকে। আর এরাই  ব্রাহ্মণ্যবাদের পাঁজিতে শূদ্র নামে পরিচিত। যাঁদের একটি বড় অংশ ব্রাহ্মণ্যবাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ইসলাম গ্রহন করেছেন। বাঙালি মুসলমানরারা অধিকাংশ শূদ্র কৈবর্তদের সমগোত্রীয়দের অন্তর্গত।

অনেকেই ভাবতে পারেন ভারতের মুসলমানরাই কেবল বঞ্চনার শিকার কিন্তু এটা সঠিক কথা নয়। ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রসার থাকার জন্য মুসলিমদের সাথে সাথে নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ও প্রবল বঞ্চনার শিকার।

একটা উদাহরণ দেই, আমার আব্বা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়ার পূর্বে তিনি ইছামতী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত দক্ষিণ বাগুন্ডি পেয়ারিলাল হাইস্কুল নামে একটা স্কুলে চাকরি করতেন।

অনেকেই ভাবতে পারেন ভারতের মুসলমানরাই কেবল বঞ্চনার শিকার কিন্তু এটা সঠিক কথা নয়। ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রসার থাকার জন্য মুসলিমদের সাথে সাথে নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ও প্রবল বঞ্চনার শিকার।

এসময় আমরা নিমদাড়িয়া নামক একটি জায়গায় ভাড়ায় থাকতাম। তো বাড়িটা তাঁর তিনি ছিলেন একজন গণিতজ্ঞ ও শিক্ষক এবং অত্যন্ত ভালো মানুষ। উক্ত অঞ্চলে ওনার প্রচুর নামডাক। তিনি একটি হিন্দু ছাত্রের বাড়িতে গিয়ে টিউশন পড়াতেন। তো প্রতিদিন তাঁকে নতুন নতুন পাত্রে টিফিন দেওয়া হত। পরে জানা যায় তিনি মুসলিম এজন্য তাঁর খাওয়া পাত্র ফেলে দেওয়া হত।

এরকম ঘটনা সচরাচর ঘটে থাকতে এখানে। যাইহোক, এই ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রভাবে ভারতের উচ্চপদ সমূহ দখল করে থাকা ব্রাহ্মণরা মুসলিমদের শুদ্রদের মতোই অচ্ছুৎ ভেবে থাকেন। ভারতে যত বৃহৎ রাজনৈতিক দল রয়েছে হোক সে বিজেপি, তৃণমূল অথবা কংগ্রেস এমনকি CPIM এর মতো কমিউনিস্ট পার্টিতেও কখনো কখনো ব্রাহ্মণ্যবাদের ছোঁয়া প্রকাশ হয়ে পড়ে। আর ব্রাহ্মণ্যবাদে বিশ্বাসী উচ্চবর্ণের মানুষরা একচেটিয়া ক্ষমতা দখলে রাখার জন্য তারা যেখানে পারে সেখানে নিম্নবর্ণ ও মুসলিম বিদ্বেষের বীজ বপন করে থাকে। আর এরফলে একজন সাধারণ হিন্দু নিষ্পাপ শিশু যখন নিম্নবর্ণ ও মুসলিমদের বিরোধিতার মধ্যে বড় হয় তখন তার মধ্যে এমনিতেই মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব সৃষ্টি হয়।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে আমি সাহিত্য সন্ত্রাস ও ইতিহাস সন্ত্রাসের কথা উল্লেখ করেছি‌।
সাহিত্যসন্ত্রাস  হল সাহিত্যের মাধ্যমে মিথ্যা , অন্যায় ও হিংসার প্রচার ও প্রচার ও প্রসার ঘটানো। এবিষয়েও আগে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ভারতীয় বিশেষতঃ বাঙালি সমাজে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে মুসলিম বিদ্বেষের অন্যতম  কারণ হল সাহিত্য সন্ত্রাস। বাংলা সাহিত্যেও বর্ণবাদের প্রবল প্রভাব থাকার জন্য বাংলা সাহিত্য মুসলিম বিদ্বেষ প্রচার ও প্রসারের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

বাংলা সাহিত্যে ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রভাব কেন ? এপ্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমাদের সাহিত্য সম্পর্কে ছোট্ট ধারণা থাকতে হবে। সাহিত্য বলতে আমরা যেটা বুঝি সেটা হল কোনো ভাষায় গল্প, ব্যকরণ ও কবিতা ইত্যাদি নিয়ে যে পরিকাঠামো গঠিত হয়েছে সেটাকে। কিন্তু আমাদের জানতে হবে যে, পুঁথি ছাড়াও নাটক, সঙ্গিত প্রভৃতিও সাহিত্যের গন্ডির মধ্যে রয়েছে।

যাইহোক, বাংলা সাহিত্যপাড়ায় যে স্বারস্বত সমাজ গড়ে উঠেছে সেখানে যেসকল হিন্দু মনীষীদের আনাগোনা রয়েছে তাঁদের ৯০ % কিংবা ৯৯% হলেন ব্রাহ্মণ তথা উচ্চবর্ণের হিন্দু। শূদ্র কবি বা সাহিত্যিকের অস্তিত্ব বাংলা সাহিত্যে রয়েছে বলে আমার জানা নেই। আবার এই সাহিত্যিকগণের অনেকেই গোঁড়া ব্রাহ্মণ ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নক্ষত্র শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ। একজন্য ভারতীয় সাহিত্য ও সমাজে তাঁর বিধবাবিবাহের আলোচনা আমরা পেলেও তিনি শূদ্র ও নিম্নবর্ণের মানুষদের সংস্কৃতচর্চার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলেন এটা আমরা জানতে পারি নাই। কারণ বিনয় ঘোষের লেখা বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ গ্রন্থৈর ৫৪২ পৃষ্ঠা থেকে ৫৪৫ পৃষ্ঠার মধ্যেই তথ্যটা চাপা থাকলেও ব্রাহ্মণ্যবাদের দাপটে সেটা আর আলো দেখল না।

অনুরূপভাবে রবীন্দ্রনাথের থেকে যোগ্যতায় কম থাকার সত্বেও শ্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে সাহিত্যসম্রাট নামে পরিচিত। কারণ তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ ও কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী। তাঁর লেখা উপন্যাস ইত্যাদীতে প্রচন্ড মুসলিম বিদ্বেষের প্রচার করা হয়েছে। তিনি এতটাই ব্রাহ্মণ্যবাদের শিকার হন ও মুসলিম বিদ্বেষের গরল ঢালতে ঢালতে তিনি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন যে রাজসিংহ উপন্যাসের শেষে তিনি লিখেছেন,

“কোনো পাঠক মনে না করেন যে, হিন্দু মুসলমান কোনো তারতম্য নির্দেশ করা এই গ্রন্থের উদ্দ্যশ্য।” (সাহিত্য সংসদ বঙ্কিম রচনাবলী, ১ম খন্ড, কলকাতা, ১৯৩৭ বঙ্গাব্দ, পৃঃ ৫৭৯)

বঙ্কিম সাহেব এতটাই মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করতেন যে, তাঁর লেখা উপন্যাসে মুসলিম খেদাতে ইংরেজদের পক্ষাবলম্বনের কথাও পাওয়া যায় ‌।

বাঙালা সাহিত্যের বিশ্বগুরু শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ছিলেন ব্রাহ্মণ ও উচ্চবর্ণের। আর একারণেই তাঁর লেখা বিভিন্ন উপন্যাসে মুসলিম বিদ্বেষের নগ্ন চেহারা প্রকাশ হয়ে পড়ে। তাঁর লেখা বউ ঠাকুরানীর হাট বা মহর্ষী উপন্যাস পড়লে মুসলিমদের বিষয়ে যে ঔপন্যাসিক তথ্য পাওয়া যায় তার অধিকাংশই হল ঐতিহাসিক ভুল।

এছাড়া ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, হেমচন্দ্র প্রমূখরাও তাঁদের সাহিত্যকর্মে প্রচন্ড মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করেছেন।

অনেকেই মনে করতে পারেন এত বড়বড় মানুষ যাঁদেরকে গোটা বিশ্ব শ্রদ্ধার চোখে দেখেন তাঁরা কিভাবে  মুসলিম বিদ্বেষী হতে পারেন। হ্যাঁ এটা অনেকটা স্বাভাবিক কারণ এর পেছনে বর্ণবাদী মনোভাব ও ব্রাহ্মণ্যবাদের একচেটিয়া  ক্ষমতালিপ্সু দায়ী। আপনাকে যদি ছোটবেলা থেকেই বলা হয় মুসলিমরা নীচ, শূদ্ররা অচ্ছুৎ এবং তাদের বিষয়ে ঘৃণার জন্ম তখন আপনার মনে সৃষ্ট হবে তখন আপনি স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম বিদ্বেষী হবেন।

এবার যখন সাধারণ মানুষ তাঁদের সাহিত্যকর্মই দেখবে, পড়বে ও শিখবে তখন স্বাভাবিক অবস্থায় পাঠকের মনে হিংসার বীর্য বপন হবে।

ইতিহাস সন্ত্রাসের বিষয়টাও একই। তবে এক্ষেত্রে ব্রাহ্মণ্যবাদী ও প্রাচ্যবাদী উভয়েই দায়ী। আপনি যখন এঁদের বই পড়বেন বা অনুবাদিত বই পড়বেন তখন আপনার মনে মুসলিম বিদ্বেষ এমনিতেই তৈরি হবে। কিন্তু যখন সোর্সবই ও তথ্যের সমসাময়িক বই পড়বেন তখন সেগুলো এন্টিভাইরাসের মতো কাজ করবে। কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য হল ব্রাহ্মণ্যবাদ , প্রাচ্যবাদ ও ভ্রষ্ট রাজনৈতিক প্রভাবে আমরা প্রাচ্যবাদী ও ব্রাহ্মণ্যবাদীদের গন্ডি পেরোতেই পারলাম না। যার কারণে মুসলিম শাসকরা আজ আমাদের কাছে দখলদার ও হিন্দু নিধনকারী হয়েই থাকল।

ইতিহাস সন্ত্রাসের বিষয়টাও একই। তবে এক্ষেত্রে ব্রাহ্মণ্যবাদী ও প্রাচ্যবাদী উভয়েই দায়ী। আপনি যখন এঁদের বই পড়বেন বা অনুবাদিত বই পড়বেন তখন আপনার মনে মুসলিম বিদ্বেষ এমনিতেই তৈরি হবে। কিন্তু যখন সোর্সবই ও তথ্যের সমসাময়িক বই পড়বেন তখন সেগুলো এন্টিভাইরাসের মতো কাজ করবে।

আবার চলচ্চিত্র জগতেও চরম ইসলামফোবিয়া রয়েছে। চলচ্চিত্রে অর্থাৎ বলিউড ও টলিউডের চলচ্চিত্রগুলোতে মুসলিমরা খলনায়কের যোগ্যতা ছাড়া আর কোনো যোগ্যতা অর্জন করতে পারল না। এটা চরম দূর্ভাগ্যের বিষয় যে, আজ এই আধুনিক যুগেও  এতটাই ইসলামফোবিক মনোভাবের অস্তিত্ব রয়েছে‌।

তৃতীয় কারণ হিসেবে আমি যে বিষয়টি দায়ী বলে মনে করি সেটা হল, বাঙালি মুসলমানের লক্ষ্যহীন জীবন ও পঙ্গু মুসলিম সমাজের স্থবিরতা।

মুসলিম সমাজও তাদের বর্তমান দূরাবস্থার জন্য সমানভাবে দায়ী। আমাদের বর্তমান মুসলিম সমাজ যেন একটা পঙ্গু মুসলিম সমাজে পরিণত হয়েছে। অপরকে দোষ দিলেও নিজের দোষ দেখার চোখ তাদের এখনো ফোটে নাই। তারা মনে করে মুসলিম হবার অর্থ রোজা ও নামাজ পড়ে জান্নাত পাওয়া যাবে। কিন্তু তারা জানে না যে, তাদের বিশ্বের বুকে সত্য ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার বড় দায়িত্ব রয়েছে। আর দ্বীনের অর্থ শুধু নামাজ ও রোজা নয় বরং বিশ্বকে শাসন ও নেতৃত্ব দেওয়াও দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। আর এটা করতে গেলে সব ক্ষেত্রেই মুসলিমদেরকে রোল মডেল হতে হবে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশতঃ মুসলিমরা শাহরুখ খান আর সালমান খানের মতো লম্পটদের রোলমডেল মেনে বসে আছে। যারা চরিত্রের অবনমন ও অপরের মেয়ে নিয়ে পলায়ন ছাড়া আর কিছু শেখায় না। এক্ষেত্রে আমাদের ধর্মীয় নেতাদের মূর্খামী ও চরম মূর্খামী অনেক অংশে দায়ী। নিজেরা অশিক্ষার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে ইমামতের দাবীদার মনে করেন। তাঁরা কিছু কেচ্ছাকাহিনী বর্ননা করাকেই জান্নাতের দিশারী ভাবেন । অনেকেই কুরআন হাদীস জ্ঞান দেন যাঁরা কুরআন হাদীসের মূল ভাষাও ঠিকভাবে জানেন না। কিছু ধর্মীয় পন্ডিত আবার কুরআন হাদীসের মধ্যে বিজ্ঞান ও রাম খুঁজতে গিয়ে ইসলামের প্রকৃত দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন ও অপরকে সরিয়ে ফেলেন। এরপর তাঁরা অন্যান্য ধর্মের মানুষদেরকে বোঝানোর বদলে তর্কাতর্কি ও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে থাকেন। আবার আমাদের কিছু আছেন তাঁরা আবার মৌলবাদী হবার বেশে সন্ত্রাসবাদের প্রচার করেন। তাঁরা ইসলামকে কেবল অস্ত্রের গুলি দিয়ে বিচার করেন কিন্তু ইসলামের গোলাপ বাগানটা দেখতে অক্ষম হয়েছেন। পশ্চিমাদের ফাঁদে পা দিয়ে ও ওহাবীবাদের মতো চরমপন্থীদের চক্রান্তে তাঁরা হয়েছেন চরমপন্থী পথভ্রষ্ট।

আমাদের মুসলিম সমাজের পঙ্গুত্বের জন্য দায়ী আমাদের মনোভাবের সংকীর্ণতা। আমাদের অনেকেরই ধারণা হল মৌলবী বা ইমাম মানে একজন আরবী পড়তে পারবে ও পান খেতে খেতে কুরআন হাদীসের পাঠ দিতে পারবে এমন ব্যক্তি। কিন্তু ইসলামের সংজ্ঞা অনুযায়ী এরা হল কাঠমোল্লা যারা ইমামতের দাবী করে কিন্তু ইমামতের দায়িত্ব পালন করার যোগ্যতা অর্জন করে নি। আমাদের ইমাম হতে হবে এমনজনকে যিনি মুসলিমদের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য হবেন, হতে পারে তিনি হবেন মহান দার্শনিক অথবা সাহিত্যিক, অথবা অধ্যাপক অথবা চিকিৎসক। তিনি হবেন বড় যোগ্য মন্ত্রী অথবা শাসক অথবা তিনি হবেন মহাকাশ গবেষক অথবা সেনাপতি। সেইসাথে তিনি হবেন আল্লাহভীরু ও ধর্মীয় পন্ডিত। আমাদের ইমাম হবেন তিনি তিনি যিনি মানুষদের সৎ ও সঠিক পথে আহ্বান করবেন মুসলিমদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ও তাদের শিক্ষা দিক্ষায় সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধ করবেন। আমাদের ইমাম কখনো বিভেদকারী হবেন না। তিনি হবেন ঐক্যের দূত।

আমাদের ইমাম হতে হবে এমনজনকে যিনি মুসলিমদের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য হবেন, হতে পারে তিনি হবেন মহান দার্শনিক অথবা সাহিত্যিক, অথবা অধ্যাপক অথবা চিকিৎসক। তিনি হবেন বড় যোগ্য মন্ত্রী অথবা শাসক অথবা তিনি হবেন মহাকাশ গবেষক অথবা সেনাপতি। সেইসাথে তিনি হবেন আল্লাহভীরু ও ধর্মীয় পন্ডিত। আমাদের ইমাম হবেন তিনি তিনি যিনি মানুষদের সৎ ও সঠিক পথে আহ্বান করবেন মুসলিমদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ও তাদের শিক্ষা দিক্ষায় সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধ করবেন। আমাদের ইমাম কখনো বিভেদকারী হবেন না। তিনি হবেন ঐক্যের দূত।

আর এটা সম্ভব হলে ইমামগণ অমুসলিমদের কাছেও আদর্শ হয়ে উঠবেন। এটা তখনই সম্ভব যখন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যপক পরিবর্তন আনা যাবে। জেনে রাখুন আমি ভারতীয় ভারতে আমার ততটুকু অধিকার রয়েছে যতটুকু অন্যদের রয়েছে। আমি ইয়াসির আরাফাত আমার সাথী রূপম দাসের থেকে এক ইঞ্চি বেশী অথবা কম ভারতীয় নই। আমি বাংলা কথা বলি। তাই আমি বাঙালি। অতয়েব আমার দেশের সরকার ও সংবিধান যখন আমাকে সকল অধিকার দিয়েছে তখন আমরা তার সদব্যবহার কেন করতে পারছি না? এটা আমাদের ভাবার সময় এসেছে।

আমাদের বাঙালি মুসলমান সমাজ এতটাই দূরাবস্থার মধ্যে রয়েছে যে, তখন তার হিন্দু ভাইটি তার বিরুদ্ধে অথবা তার ধর্মের বিরুদ্ধে মূর্খতা বশতঃ অপবাদ দিচ্ছে তখন সে তার যথার্থ উত্তর না দিয়ে অযথাই তর্ক করে ও গালমন্দ করে। ফলে সে নিজেকে ও ইসলামকে অপরের কাছে ভুলভাবে তুলে ধরে। খন দেখছি আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, সাহিত্যে ও শিক্ষাদীক্ষায়, সমাজে ও রাজনীতিতে আমাদেরকে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে তখন আমরা কেন সত্য তুলে ধরতে আমাদের মধ্যে সাহিত্যিক , রাজনৈতিক ব্যক্তি ও ঐতিহাসিক প্রভৃতি তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছি সেটা ভাবনার সময় এসেছে।

অবশেষে বলব, আমরা যদি এখন না সতেজ হই তাহলে আর কবে জেগে উঠব? আর আমরা ঘুমিয়ে থেকে নিজেরা দোষী হয়ে অপরকে নিন্দামন্দ করাটা অনেকাংশে ভুল।

• লেখক পরিচিতিঃ লেখক মুহাম্মাদ ইয়াসির আরাফাত মল্লিক হলেন একজন ভারতীয় ছাত্র ও টি আর টি বাংলার সাংবাদিক। তিনি একজন অটোম্যানিস্ট লেখক ও ব্লগার।


©টি আর টি বাংলা ডেস্ক

 81 total views,  1 views today

Start Blogging

Register Here


Registered?

Login Here

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.