চামলিজা টাওয়ার: ইউরোপের সর্বোচ্চ টাওয়ার ইস্তাম্বুলে

কল্পনা করুন ৩৪ তলা ভবনের উপর থেকে ইস্তাম্বুল দেখছেন। হাতে এক কাপ তুর্কিশ কফিও আছে। প্লেনে ওঠা ছাড়াই পাখির চোখে ইস্তাম্বুল। শুধু এক দিকে নয় ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ দেখতে পারবেন। এই সুযোগকে সবার জন্য সম্ভব করেছে চামলিজা টাওয়ার।
আধুনিক ইস্তাম্বুলের নতুন আইকন চামলিজা টাওয়ার। ইউরোপের সর্বোচ্চ টাওয়ার এখন ইস্তাম্বুলে। টিউলিপ ডিজাইনের এই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে ইস্তাম্বুলের এশিয়ান অংশে ছোট চামিলিজা পাহাড়ের উপর । ৪৯ তলার এই টাওয়ারটি ৩৬৯ মিটার উচ্চতার। টাওয়ারের ৩৩ ও ৩৪ তলায় রয়েছে দুটি পর্যবেক্ষন কেন্দ্র। এছাড়া ৩৯ ও ৪০ তলায় রয়েছে দুটি রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে।
পূর্বে চামলিজা পাহাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেকগুলো টিভি ও রেডিও এন্টেনা ছিল। এগুলো দৃশ্যদূষণ তৈরী করছিল। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এরদোয়ান ২০১১ সালে সিদ্ধান্ত নেন যে এমন একটি টাওয়ার নির্মাণ করবেন যাতে সবগুলো এন্টেনা একটি টাওয়ারে নিয়ে আসা যায়। ২০১৬ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে উদ্বোধনের সময় এটি শুধু ইস্তাম্বুলের নয় পুরো ইউরোপের সর্বোচ্চ টাওয়ারের মর্যাদা লাভ করে। এটি বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন টাওয়ার যেখান থেকে এক সাথে ১০০টি টিভির সম্প্রচার পরিচালনা সম্ভব।
প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভীড় জমায় চামলিজা টাওয়ারে। টাওয়ারের বেজমেন্টে রয়েছে একটি লাইব্রেরী ও প্রদর্শনী কক্ষ। প্যানারোমিক একটি লিফটে চড়ে আরোহন করা যায় ৩৩ ও ৩৪ তলার অবজার্ভেশন কেন্দ্র। দিনের বেলায় গেলে দেখা যাবে দিগন্ত বিস্তৃত ব্যস্ত ইস্তাম্বুল। মহাসড়কগুলো যেন সাপের মতো একে বেকে এগিয়ে চলেছে ইস্তাম্বুলের বুক চিরে। দূরে মর্মর সাগরে চলমান জাহাজগুলো চোখে পড়বে।
রাতের বেলা ইস্তাম্বুলের অন্য রকম রূপ ধরা পড়বে টাওয়ার থেকে। কোটি কোটি বিদ্যুৎ বাতিতে ঝলমল করে ওঠে পুরো শহর। রাস্তার সোডিয়াম আলোর মাঝে ছুটে চলা গাড়িগুলোকে জোনাকি পোকার মতো মনে হয়। চামলিজা টাওয়ার ভ্রমণ আপনার ইস্তাম্বুল দেখার সাধ মেটাবে ষোল আনা।
Article: The Ottoman Group

 602 total views,  2 views today

Start Blogging

Register Here


Registered?

Login Here

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.